ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ভাঙ্গায় গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৯:০৮:১৬
ভাঙ্গায় গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আট গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিক সহ কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। মুলতঃ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তখনই ওই ঘটনার সমাধানও হয়।

আজ শনিবার সকাল ওই সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হলে তা হয়ে উঠে অনেক সংঘটিত ও রক্তক্ষয়ী। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও ফরিদপুর জেলা পুলিশের যথাযত পদক্ষেপ কারণে এ সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বেলা পৌনে ১২টার মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজারে এটি নিয়ে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। তবে, রাতেই ভাঙ্গা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থানীয় মাতুব্বরের সহযোগিতায় তা সমাধান করে আসেন। এ ঘটনা ওখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শনিবার সকাল ৭টা থেকে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ওই দুই পক্ষে ভাগ হয়ে আট গ্রামের জনগণ আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ সুসংঘটিতভাবে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এসময় মুনসুরাবাদ গ্রামের অধিবাসীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কিসহ হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একাধিক পুলিশ সদস্য এবং এ সময় সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন শতাধিক। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান 'দৈনিক বাংলা ৭১কে জানান, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংঘর্ষের শুরুতেই জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হলে ফরিদপুর জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং এ সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন।

এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বেলা পৌনে ১২ টার মধ্যে পরিস্থিতি সম্পুর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

শনিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি মিজান।

(আরআর/এসপি/এপ্রিল ০৪, ২০২৬)