প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত
বিচার প্রয়োজন নীতির রাষ্ট্র গঠনে
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৮:২১:৩৯
মোমিন মেহেদী
বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪ যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও দেশে স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরা যেমন নির্মমতায় মেতে আছে, ঠিক তেমনি নির্মমভাবে বাংলাদেশে সহিংসতা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকা স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকগোষ্ঠিও। হয়তো তার প্রমাণ দিতেই এবি পার্টির মত জামায়াতের বি টিম হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ বলছেন প্রকাশ্যে- ‘আর্মি ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেবো’ ‘দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে পালাতে হবে।’ ‘জাতীয় সংগীত মানি না’ ‘বিজয় দিবস মানি না’ এমনকি তিনি বলছেন যে, ‘একাত্তরে কোনো যুদ্ধ হয়নি।’ এতকিছু বলার পরও কেন সে গ্রেফতার হয় না? কারণ কি? কারণ তারা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখাদের পাহাড়াদার। আর এমন পাহাড়াদারদের পৃষ্টপোষকতাতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় থেকে সাগর-রুণী হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে আছে, বিচার হয়নি নুসরতা-তনু বা ত্বকী হত্যাকাণ্ডেরও।
এর মধ্যে দেশের সবচেয়ে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একটি হলো- ত্বকী হত্যাকাণ্ড। নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে ৮ মার্চ। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি করা হয়েছে। ওইদিন সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর সিরাজ শাহর আস্তানায় ত্বকীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাস বলছে- ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পিতার কাঁধে যখন পুত্রের লাশ ওঠে, তখন বাবা বোঝে জীবনের বোঝার চেয়ে এ বোঝা কতটা ভাড়ী। সেই বোঝা কাঁধে নিয়ে চলতে থাকা বাবা রফিউর রাব্বি আশাবাদী হয়েছিলেন যখন বিচারের প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিলো। গণমাধ্যম বলছে- ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলো- নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি। ত্বকী হত্যার পর বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ মাসের ৮ তারিখে যথারীতি পালিত হবে ১৫৭ তম মাসের কর্মসূচি। কিন্তু তাও কি হবে বিচার এবার? এমন প্রশ্নের কাঁধে ভর দিয়েই বলতে চাই- বিচার হবে, যদি দেশের বর্তমান সরকার আইন ও বিচারের সংস্কৃতি চর্চায় অগ্রণী ভূমিকার পালন করেন। তা না হলে বহুল আলোচিত ঘটনার তকমা নিয়ে অতিতের মত প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জে যেমন ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলেই থাকবে, বরাবরের আইন ও বিচারের সংস্কৃতি মুখ থুবরে পরেই থাকবে।
মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডর মামলায় আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে প্রায় ৩ বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি চাঞ্চল্যকর এ মামলার। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর এই মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ৭ পাতার ওই স্বীকারোক্তি হুবহু যদি দেখি, তাহলে দেখা যাবে- ভ্রমর তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন- ‘আমি মার্চ মাসের ৬ তারিখ আমার ছেলে সুলতান নাঈমের অসুস্থতার কথা জানানোর জন্য আজমেরী ওসমানের অফিস ইউনার ফ্যাশনে যাই। অফিসের রিসিপশনে ঢুকে দেখি পুল খেলছে বড় ভাই কাজল, শিপন, জেকিসহ অন্যরা। খেলা দেখি অনেকক্ষণ। তারপর অফিসের সিসি ক্যামেরায় দেখি রাজিব ও কালাম গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। তারপর আমরা অনেকক্ষণ পুল খেলি। পরে রাজিব, কালাম, মামুন, ত্বকী, বিলাই চক্ষু লিটন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ওই অফিসে ফিরে আসেন। তারপর রাজীব ও কালাম ত্বকীকে আজমেরীর রুমে নিয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কাজল আমাকে বলে যে, চলতো দেখি কাকে নিয়ে এসেছে। এই বলে আমাকে আজমেরীর পাশের রুমে নিয়ে যায়। ওই রুমে বসে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি ও গালিগালাজের আওয়াজ শুনতে পাই।
গালাগালির শব্দ আজমেরীর রুম থেকে আসছিল। রাত ১১টার দিকে আমি অফিস থেকে চলে আসতে চাইলে রাজিব আমাকে বলে পরে যাও। এর এক ঘণ্টা পর ১২টার দিকে আজমেরী তার রুমের থাই গ্লাসের দরজা খুলে বের হয়ে আসেন। দরজা খোলার পর দেখি আজমেরীর রুমের মধ্যে কালাম, লিটন, রাজিব ও মামুন দাঁড়িয়ে আছে এবং ত্বকীর লাশ চোখ বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। দরজা খুলে বের হয়ে এসে আজমেরী ওসমান বলে সব শেষ, তোরা যেখানে পারিস লাশটি ফেলে আয়। তখন আজমেরী বলে আমাকে নিয়ে যেতে। তখন আমি বলি আমি কেন যাব? আমাকে কেন জড়াচ্ছেন? আমার ছেলে অসুস্থ। তখন আজমেরী পিস্তল বের করে ২টি গুলি করেন। ভয়ে তখন আমি বলি যাব। তারপর রাজিব, কালাম, লিটন, মামুন মিলে ত্বকীর লাশ আজমেরীর গাড়ির পেছনে তোলে। তারপর গাড়িটি ড্রাইভার জমশেদ চালিয়ে নিয়ে চারারগোপ যায়। আমি গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে ছিলাম। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গাড়িটি ১৬ তলা বিল্ডিংয়ের অপর দিকে থামে। গাড়ি থামার পর আমি গাড়ি পাহারা দিতে থাকি। আর রাজিব লিটন, মামুন ও কালাম বস্তাবন্দি ত্বকীর লাশ নিয়ে ঘাঁটের দিকে যায়। এর ১৫/২০ মিনিট পর তারা খালি হাতে এসে গাড়িতে ওঠে। তারপর আমরা আবার আজমেরীর অফিসে চলে আসি। পরে সেখান থেকে আমরা যে যার মতো চলে যাই।’
ইতমধ্যেই গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পেরেছি- খুনি ঘটনা স্বীকার করলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বরাবরের মত তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওই সময় নাগরিক সমাজ এক হয়। যা সবার জানা আছে। সেখানে আমাকে আহ্বায়ক করা হয়। অভিযোগ আছে ওই সময় স্থানীয় একটি পরিবার নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য ভাড়া বিনা কারণে বৃদ্ধি করেছে। তখন থেকেই ওই পরিবারের লোকজন আমার বা আমার পরিবারকে টার্গেট করে। কিন্তু আমাকে না পেরে আমার অবুঝ ছেলেকে অপহরণ করে এবং তাকে নৃশংসভাবে খুন করে। পরে চিন্তা করলাম যে, ছেলে হত্যার বিচার পাব। এই আশায় থানায় মামলা করি। কিন্তু সবকিছু বের হয়ে এলেও আজও তদন্ত শেষ হয়নি। এ কারণে আদালতে বিচারও শুরু করা যাচ্ছে না। আর কি কারণে চার্জশিটের সবকিছু ঠিক থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। আর বিচার হবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।’ ওই পরিবারটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আজ যদি দেখি, তাহলে ভেসে উঠবে- চরম পরাজয়ের গ্লানিতে তলিয়ে গেছে সেই পরিবার। কিন্তু তারপরও বিচার কেন ঝুলে আছে? উত্তর তো সেই একটাই- ‘ চোরের মাসতু তো ভাই।’ যদি তাই না হবে, তাহলে কেন ‘বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে’ এখনো?
পৃথিবীতে পিতার কাঁধে সন্তানের লাশকেই বেশি ভারী মনে হয়। বন্ধু রফিউর রাব্বি গত সাড়ে ১১ বছর এই অসহনীয় ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন। যতদূর জানার সুযোগ হয়েছে ত্বকীর পুরো নাম- তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। চাষাঢ়ার এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ এ লেভেল পরীক্ষার ফলাফলে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল ত্বকী, যা সারা দেশে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ও লেভেলেও সে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। এ রকম একজন মেধাবী তরুণের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। তারপরও কেন তাঁকে খুন করা হলো? নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে যাঁরা পরিচিত, সেই ওসমান পরিবারের সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি।
২০১৩ সালের ৮ মার্চ রাতেই ত্বকীর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আসামি অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন এবং ১৮ মার্চ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ত্বকী হত্যার জন্য তিনি শামীম ওসমান ও তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি অবগতিপত্র দেন। পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে র্যাব ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। ওই বছরের ৭ আগস্ট র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে আজমেরী ওসমানের মালিকানাধীন ‘উইনার ফ্যাশন’-এ অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা জিনস প্যান্ট, পিস্তলের বাঁট ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। অভিযানের সময় অফিসের দেয়াল, সোফা, আলমারিসহ আসবাবপত্রে অসংখ্য বুলেটের দাগ পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জে অন্যতম টর্চার সেল ছিল উইনার ফ্যাশন। আর র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল জিয়াউল আহসান (বর্তমানে আটক) সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানসহ ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ত্বকী হত্যায় অংশ নেওয়া অন্য ১০ জন হলেন রাজীব, কালাম শিকদার, মামুন, অপু, কাজল, শিপন, জামশেদ হোসেন, ইউসুফ হোসেন ওরফে লিটন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি। যেকোনো দিন এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’ বাস্তবতা হলো- ২০২৪ সালেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। সন্তানহারা একজন মা যে মনের দিক থেকে কত শক্ত থাকতে পারেন, তা আনোয়ারা বেগমকে দেখলে বোঝা যায়। নানা মহলের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তিনি তনু হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সমাবেশে কথা বলেছেন। তিনি জানেন সন্তানকে আর ফিরে পাবেন না। কিন্তু তাঁর দুটি চাওয়া- তনুকে যারা খুন করেছে, তাদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে আর কারও সন্তান যেন অপঘাতের শিকার না হয়। ত্বকী হত্যার এক বছর পর নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটে। সেই মামলার বিচারকাজও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। অথচ ত্বকী হত্যার তদন্তকাজই শেষ হয়নি। কারণ কি? কারণ যাকে দিয়ে ভূত ছাড়াবে, তাকেই ধরেছে ভুতে।
এই ভুতেরা এখনো চেপে বসে আছে শর্ষেও ভেতরে। হয়তো সেই শর্ষেও কারণে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকাজে গতি এসেছে। সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ শেখকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এর আগে গ্রেপ্তার হন সাফায়েত হোসেন শিপন, মামুন মিয়া ও কাজল হাওলাদার। ত্বকী হত্যার ঘটনায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের দুজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অপরাধ স্বীকার করার পরও বিচারের রায় থমকে যাচ্ছে। মধ্যিখানে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। আমরা একের পর এক ১৫৭ তম মাস অতিক্রম করতে করতে যদি দেশে সত্যিকারের আইন ও বিচারের সংস্কৃতি বাস্তবায়নের উদ্যেগ সরকার নেয়, তাহলে আর যাই হোক খুনের মত জঘণ্য ঘটনার হাত থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ চাই, যেই বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধী বা তাদের সমর্থকরা থাকবে না, থাকবে না নির্মমতার অভিশাপ। চাই ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক, শাস্তি পাক সকল খারাপ লোক। সেই সাথে তনু-নুসরাত-সাগর-রুণীসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করুক ‘অপরাধী যে-ই হোক শাস্তি তার হবেই’ নীতিতে তৈরি হচ্ছে ছাত্র-যুব-জনতার প্রকৃত বাংলাদেশ। সেখানে বাবার কান্নার জলে ভিজবে না বাংলাদেশের মাটি।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাভাস।
