প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
টাঙ্গাইলে গ্রামীণ অবকাঠামো ও সংস্কার কর্মসূচির লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৮:২৫:২৪
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো ও সংস্কার কর্মসূচির কাজ না করেই লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) একরামুল হক এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের আওতায় গ্রামীন অবকাঠামো ও সংস্কার কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল সদরসহ ১২ টি ইউনিয়নে গ্রামীন রাস্তা নির্মান ও বিভিন্ন মাদ্রাসার গেইট সংস্কারের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অথচ এসব প্রকল্পের কোন কাজ না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কাকুয়া প্রকাশ মকবুরের বাড়ি হতে হেলালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভড়াট ও ইটের সলিং এর জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য কামাল মোল্লা। সেখানে গিয়ে দেখা যায় রাস্তায় কোন কাজই করা হয়নি। অথচ বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী জানান, তিনি গত ছয় মাস আগে শুনেছেন রাস্তার কাজ এসেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবে এই রাস্তার কোন কাজ চোখে পড়েনি।
একই অবস্থা দক্ষিন গয়লা হোসেন দাখিল মাদ্রাসার মেইন গেটের। এই গেটের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণ এবং গ্রীল নির্মানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোন প্রকার কাজ না করেই বরাদ্দের পুরো টাকাই তুলে নিয়েছেন। মাদ্রাসার পাশেই আমিনুরের বাড়ি হতে ঠান্ডুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় গাইড ওয়াল এবং মাটি ভড়াটের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে কোন কাজ হয়নি এই রাস্তাও। তার পরও টাকা পরিশোধ করা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যানকে। আর এই প্রকল্পের চেয়ারম্যানও ছিলেন জয়নুল আবেদীন।
ঠান্ডু মিয়ার মার্কেট ব্যবসায়ীরা জানান, মাদ্রসার প্রধান গেইটের কাজ এখনো সম্পন্ন করা হয়নি। এছাড়া যে রাস্তায় মাটি ভড়াট ও গাইড ওয়াল করার কথা সেখানে কোন কজই হয়নি। এক কথায় তারা এই আমিনুরের বাড়ি হতে ঠান্ডুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কোন কাজ হওয়ার কথা জানেন না।
এদিকে পূর্ব দেলদা হাটখোলা থেকে মান্নানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সলিং করার জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই রাস্তায় শুধু সামান্য মাটি ফেলা হয়েছে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কামাল মোল্লা জানান, বরাদ্দের পুরো টাকাই তুলেছেন তিনি। তবে কাজ এখনো করেননি বলেও স্বীকার করে বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজটি শেষ করা হবে।
তবে কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, আমি বরাদ্দের অর্ধেক টাকা পেয়েছি। তিনিও অল্প দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) একরামুল হক জানান, প্রকল্পগুলোর প্রায় সব কয়টিই শেষ হয়েছে। যে গুলো এখনো শেষ হয়নি সেগুলোর টাকা ফেরত পাঠানো হবে। তবে কাজ না করে কেউ টাকা নেননি। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
(এসএম/এসপি/এপ্রিল ০৬, ২০২৬)
