ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পুলিশ কর্মকর্তার ভয়ঙ্কর নারী ফাঁদ, নিঃস্ব অনেকে

২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৮:১৯:১৪
পুলিশ কর্মকর্তার ভয়ঙ্কর নারী ফাঁদ, নিঃস্ব অনেকে

হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ : পুলিশ কর্মকর্তা আর বিপথগামী এক নারী মিলে তৈরি করেছে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। সে ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। কেউ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন আবার কেউ হয়েছেন মামলার আসিামি। এমনই এক ফাঁদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাঁর হাত থেকে রেহাই পাননি ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জের রাকড়া গ্রামের মৃত অধির ঘোষের মেয়ে পিংকি রানী ঘোষ অপ্রাপ্ত বয়সে স্থানীয় এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন যেত না যেতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে সে। এর দেড়বছরের মাথায় পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলায় এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে আবারো বিবাহ করেন। সেখানে কিছুদিন সংসার করার পর একটা সন্তান জন্ম দেয়। এর কিছুদিন স্বামী-সন্তানকে ফেলে রেখে সেখান থেকে চলে আসে। এরপর পরিচয় হয় পুলিশের উপপরিদর্শক তকিবুর রহমানের সঙ্গে। পরে দুজনে মিলে গড়ে তোলে ভয়ঙ্কর এক ফাঁদ। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেক দিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, অনেকে মামলার আসামি হয়েছেন। কেউ ছেড়েছেন নিজের বাড়ি।

সূত্র বলছে, পুলিশ কর্মকর্তা তকিবুর ও পিংকির ফাঁদে পড়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলার ষাটোর্ধ অনোয়ার হোসেন, মুজাহিদুল ইসলামসহ আরো অনেকে। তাদের চাহিদামত টাকা দিয়ে অনেকে আবার মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চললেও সংশ্লিষ্টরা নজর দিচ্ছে না। আর এ ঘটনা তো নজিরবিহীন। অনতিবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তকিবুর রহমান বলেন, ‘এমন ঘটনা আমি ঘটাতেই পারি না। পারলে এসব নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই।’

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘দুটি ঘটনা আমি এখানে যোগদানের আগের। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।'

(এইচআর/এসপি/এপ্রিল ০৯, ২০২৬)