প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত
‘আর্থিক খাতে সুশাসনের জন্য ব্যাংকিং খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৩:০৮:৫৮
স্টাফ রিপোর্টার : সরকার আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী এ সব কথা জানান।
এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প ও সহজ শর্তের বৈদেশিক উৎস ও অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজার উন্নয়ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় করার মাধ্যমে ঋণগ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দিচ্ছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত থেকে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণ নির্ভরতা হ্রাস করা এবং জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে আনা এবং ফিসক্যাল স্পেস তৈরির মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা হবে।
মধ্যমেয়াদি বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিবিএফ) এবং মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনীতি ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিএমএফ) প্রণয়নে একটি ডায়নামিক Macro-Fiscal Model উন্নয়ন করে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবায়ন উপযোগী প্রক্ষেপণ করে সে অনুযায়ী সেক্টরাল বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে, যোগ করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই লক্ষ্য করেছি যে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি পূরণে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিদ্যমান ছিল।
আমাদের বর্তমান লক্ষ্য -
১. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজতর হয়।
২. রাজস্ব সংস্কার: আমরা করজাল বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন ও অটোমেশন করছি যাতে ঋণের নির্ভরতা কমে। পাশাপাশি রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ অর্জিত হয়।
৩. পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা: আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।
৪. বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: আমরা এসএমই (SME) খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যা প্রকৃত জিডিপি বাড়াবে এবং উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এটি করা হবে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণ এবং সহনীয় হারে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে।
৫. সামাজিক সুরক্ষা: শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মানব উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার দক্ষ সম্প্রসারণ।
মন্ত্রী বলেন, মূলধন গঠনে ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে প্রকৃত স্বাধীনতা দেওয়া হবে, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি কর্পোরেট বন্ড, সুকুক ও গ্রিন বন্ড চালু করে পুঁজিবাজারকে বহুমাত্রিক করা হবে। বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ভোগ ও রাজস্বের স্বাভাবিক চক্রকে সচল করার মাধ্যমে আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করবে।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ১০, ২০২৬)
