প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
দিনাজপুরে বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৮:১২:০৮
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনাজপুরে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। আজ মঙ্গলবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনাজপুর একাডেমি স্কুল মাঠ প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানস্থ বৈশাখী মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর -৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. শাহীনুর ইসলাম।
এছাড়া দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রিয়াজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এস.এম. হাবিবুল হাসান, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান রহমান, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আখতারুজ্জামান জুয়েল, যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
এদিকে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি,দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠী,নবরূপীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী,পান্তা উৎসব,সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।
শোভা যাত্রা শেষে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়মাঠে সপ্তাহ ব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় হস্তশিল্প, কুঠির শিল্প, আবহমান বাংলার মাটির তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা সামগ্রীসহ বাঙালি খাবারের সমাহার দেখা যায়।
নানা পোশাকে রাস্তাঘাটে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।নারী-পুরুষ ও শিশুদের পরনে ছিল লাল-সাদা গ্রামীণ সাজে ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে আবহমান বাংলার হাতি-ঘোড়া,পালকি, গরুগাড়িসহ নানান ভাস্কর্যের সমন্বয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ মো.আখতারুজ্জামান মিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রা এই উৎসবকে দেয় নতুন মাত্রা।
শোভাযাত্রার বর্ণিলতায় ফুটে ওঠে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। মোরগের প্রতীক নতুন ভোরের আহ্বান জানায়।বেহালার সুরে মিশে থাকে হৃদয়ের আবেগ।পায়রার ডানায় উড়ে যায় শান্তির বার্তা। হাতি ও ঘোড়ার প্রতীকে জাগে শক্তি ও ঐতিহ্যের গৌরব, আর পেঁচার গভীর দৃষ্টিতে যেন লুকিয়ে থাকে ইতিহাসের নিঃশব্দ স্মৃতি। ফেস্টুন আর ব্যানারের মাঝে মানুষের উচ্ছ্বাস শহরটিকে পরিণত করে এক চলমান উৎসবমঞ্চে।
বৈশাখী রঙে সজ্জিত মানুষ স্লোগানের ছন্দে বরণ করে নতুন বছরকে। অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—পহেলা বৈশাখ শুধুই সময়ের পালাবদল নয়, এটি আত্মপরিচয়ের পুনর্জন্ম, নতুন শক্তি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের দিন।
এই উৎসবের শিকড় ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত। মোগল সম্রাট আকবরের হাত ধরে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রয়োজনে যে সূচনা, তা আজ রূপ নিয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহোৎসবে। পাকিস্তান আমলে এটি হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতীক—একটি জাতির আত্মমর্যাদার ভাষা।
দিনাজপুরের এই বৈশাখ তাই কেবল একটি দিনের উৎসব নয়—এটি মানুষের মিলন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যতের প্রতি এক অদম্য প্রত্যয়ের নাম। এখানে প্রতিটি পদচারণায় লেখা হয় নতুন স্বপ্ন, প্রতিটি রঙে আঁকা হয় এক অমলিন বাংলাদেশ।
এছাড়াও জেলার ১৩ টি উপজেলায় নানা আয়োজনে বর্ণিল ভাবে উদযাপন হয়েছে পহেলা বৈশাখ।
(এসএস/এসপি/এপ্রিল ১৪, ২০২৬)
