ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

নীলফামারীতে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে সাতজনকে জরিমানা

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৭:২২:১৬
নীলফামারীতে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে সাতজনকে জরিমানা

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : দেশের জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে যখন সাধারণ মানুষ এক লিটার তেলের জন্য হাহাকার করছে, তখন নীলফামারীর সৈয়দপুরে মজুতদারির এক চিত্র ধরা পড়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে সৈয়দপুর-রংপুর বাইপাস সড়কের ধলাগাছ মোড়ে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উন্মোচিত হয়েছে সংকটের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার হীন কৌশল।
দৃশ্যত এটি একটি এলপিজি স্টেশন হলেও এর পেছনের গুদামে তিনটি ট্যাংক লরি এবং কাভার্ড ভ্যানের ভেতর ড্রামজাত করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল। ফিলিং স্টেশনের মালিক রফিকুল ইসলাম এই মজুদের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তেল জব্দ করে এবং মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সাতজনকে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে। লাইসেন্সবিহীনভাবে এভাবে তেল মজুদ রাখা কেবল আইনত অপরাধই নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।

নীলফামারীসহ সারাদেশে গত মার্চ থেকে চলা তীব্র জ্বালানি সংকটের ফলে এই কৃষিপ্রধান অঞ্চলের সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খাত স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই চরম ভোগান্তিকে পুঁজি করে যখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালায়, তখন তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের গুদামজাতকরণ বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে আতঙ্কিত কেনাকাটাকে উসকে দিচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৈয়দপুরের এই অভিযান একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও সংকটের মূলে পৌঁছাতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। দেশের এই ক্রান্তিকালে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুতদারদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় গুটিকয়েক মানুষের লোভের খেসারত দিতে হবে গোটা জাতিকে।

(ওকে/এসপি/এপ্রিল ১৮, ২০২৬)