ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত

হাদি হত্যা মামলায় আদালতে অস্ত্র বিক্রেতার স্বীকারোক্তি

২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৪৮:৫২
হাদি হত্যা মামলায় আদালতে অস্ত্র বিক্রেতার স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এ মামলায় ১৫ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামি মাজেদুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন অপর একটি আদালত। সেই রিমান্ড শেষে আজ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামি মাজেদুল হক হেলালের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র (পিস্তল) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় পিস্তলের সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের এম আইচ আর্মস কোং নামের অস্ত্রের দোকান থেকে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই দোকান থেকে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়।

তদন্ত করে জানা যায় যে, সেই দোকানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল, তার লাইসেন্স ৪৫/৪৮। লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। পরে ২০০০ সালে লাইসেন্সটি তার নামে করে নেয়। তার লাইসেন্সটি গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল। পরে আর নবায়ন হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স দোকান থেকে অস্ত্রটি কেনেন হেলাল। সেই অস্ত্রটি হেলালের কাছ থেকে আসামিদের কাছে যায়।

এই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি হেলাল চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির দোকানের মালিক।

জানা যায়, গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো কয়। সেখানেই চিকিসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বৃহৎ জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে আনার চেষ্টা চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ১৯, ২০২৬)