প্রচ্ছদ » ক্যাম্পাস » বিস্তারিত
মহুয়ার পালা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি আবৃত্তি সংগঠনের এক স্বপ্নযাত্রা
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৮:৩২:৩১
মাজহারুল হক লিপু
১৯৯৬ সালে আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন গণশিল্পী সংস্থার সদস্য তখন সংগঠন থেকে আমরা মঞ্চায়ন করেছিলাম নৃত্য নাট্য মহুয়ার পালা। টুটুল ভাইয়ের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন মহড়া শেষে অনেক পরিশ্রমের ফসল ছিলো আমাদের মহুয়ার পালা। দ্বিজ কানাই রচিত ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নির্মিত মহুয়ার পালা নৃত্য নাট্যটি সেই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন আবৃত্তি আবৃত্তি তাদের ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলো ১৬ এপ্রিল। এ উপলক্ষে ওরা মহুয়ার পালা মঞ্চস্থ করবে শুনে মনে মনে ফিরে গিয়েছিলাম ৩০ বছর আগের স্মৃতিতে। ভাবছিলাম গণশিল্পী সংস্থা একই সাথে গান, আবৃত্তি, নৃত্য নিয়ে কাজ করে তাই তারা নৃত্য নাট্য মহুয়ার পালা মঞ্চস্থ করতে সক্ষম হলেও একটি আবৃত্তি সংগঠন কিভাবে এটি দর্শকের বোধগম্য করে তুলবে। আবৃত্তি আবৃত্তির সাথে আমি প্রতিষ্ঠার দিন থেকে যুক্ত। বর্তমান সভাপতি নওশীনের খুব ইচ্ছে ওর নির্দেশনায় তৈরি মহুয়ার পালা আমাকে দেখাবে। আমি নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইনি। যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চে। মহুয়ার পালা উপভোগ করলাম মন দিয়ে।
মূলত সংলাপ গুলো আবৃত্তিশিল্পীরা নেপথ্যে উচ্চারণ করেছে আর বাকি সদস্যরা সামনে অনেকটা কোরিওগ্রাফির মত ঠোঁট মিলিয়ে এর আঙ্গিক উপস্থাপন করেছে। এটি নৃত্যনাট্য নয় আবার পূর্ণাঙ্গ নাটক নয়। বাচিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে নেপথ্য কণ্ঠ এবং আঙ্গিক উপস্থাপন খুব সহজেই দর্শককে গল্পটি বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। দর্শক উপভোগ করতে পেরেছে এটিই তাদের সাফল্য।
আমি বলছি না অসাধারণ একটা প্রযোজনা আবৃত্তি আবৃত্তির মহুয়ার পালা। কিন্তু আমি সন্তষ্ট তাদের এই প্রয়াসে। এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য মহুয়ার পালার দীর্ঘ লিখিত রূপকে সংক্ষিপ্ত করে দর্শক-প্রাচ্য করে তোলা। এটি তারা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে।
একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি আমরা। শিল্প,সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চায় এই প্রজন্মের আগ্রহ ক্রমেই তলানিতে পৌঁছে গেছে। ঠিক এই সময়ে মহুয়ার পালা করার উদ্যোগ গ্রহণ করাই এক দু:সাহস। এই পরিস্থিতিতে যেখানে ৫ জন ছেলে মেয়েকে একসাথে করাই দুরূহ ব্যাপার, সেখানে প্রায় ৩০ জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে মেয়ের নিয়মিত চর্চায় এরকম একটি প্রযোজনা মঞ্চায়ন করা রীতিমতো একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফলভাবে শেষ করেছে আবৃত্তি আবৃত্তি।
শুরুর দিন থেকে ২৩ বছর ধরে আবৃত্তি আবৃত্তির সাথে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে প্রতি বছর পরিবর্তন হয় এই সংগঠনের নেতৃত্ব। প্রত্যেক কমিটি সফলতা নিয়ে শেষ করে গেছে তাদের মেয়াদকাল। কিন্তু অতীতের সাফল্য ম্লান হয়ে যায় বর্তমান না থাকলে। সেদিক থেকে নওশীন মাজেদের কমিটিকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। একটি সংকট কালের মধ্যেও সংগঠনকে তোমরা নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়। তোমরা দেখিয়েছ নতুন স্বপ্ন।
জয়তু আবৃত্তি আবৃত্তি।
লেখক : সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক
(এমএইচএল/এএস/এপ্রিল ১৯, ২০২৬)
