ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

বিএনপি নেতার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর

২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৯:০৭:৪১
বিএনপি নেতার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান মিন্টুর অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার ও তথ্যমন্ত্রীর ব্যানার ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আমি মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ২/১ জন মাদক বিক্রেতা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা কোতায়ালী থানা ছাত্রদলের সদস্য রাকিব হাসান আলভী, বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা জুয়েল হাওলাদার, মনির ফকির, শহিদুল ফকির, বার্থী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি অভি কাজী সহ আরো ১০/১২ আমার অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং তথ্যমন্ত্রীর ব্যানার ভাঙচুর করেছে।

অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ওইদিন রাত নয়টার দিকে তথ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ শেষ করে উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বার্থী বাজারে আসি। এসময় বিএনপি’র সিনিয়র নেতাকর্মীদের সামনেই আমাকে মারধর করে তারা।

তবে বিক্ষুব্ধ যুব ও ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা মিন্টুর অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আ.লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমান মিন্টু ঢাকায় বসবাস করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতো। আ.লীগ পতনের পর মিন্টু এলাকায় ফিরে এসে বিএনপির বড় নেতা সেজেছেন। হামলা-মামলার শিকার বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বার্থী ইউনিয়নে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তিনি (মিজানুর রহমান মিন্টু) পক্ষপাতিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতি করে ভিজিএফর স্লিপ বিতরণ, টাকার বিনিময়ে জেলে কার্ডের চাল বিতরণ, গ্রাম্য সালিশ করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইরি-বোরো ব্লকের নেতৃত্ব দখল, যাত্রী ছাউনী দখল, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তার চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে বার্থী ইউনিয়ন যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী বার্থী বাজার ও বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, বার্থীতে মিজানুর রহমান মিন্টুর কোন অফিস নেই। সে যাত্রী ছাউনি দখল করে অফিস বানিয়েছে। এখানো কোন ভাঙচুর কিংবা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ২১, ২০২৬)