ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শ্যামনগরে জমি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪ 

২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৭:৪৭:৪৮
শ্যামনগরে জমি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪ 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার গুমানতলি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- গুমানতলী গ্রামের মৃত: আব্দুল আজীজ গাজীর ছেলে আজিজুল গাজী, আজবাহার গাজী, আকবর আলী গাজী, সিদ্দিক গাজী, আজগার আলী, আজিজুল গাজীর স্ত্রী জাহানারা বেগম, মেয়ে আমেনা খাতুন, ছেলে ফজলুর রহমান ও নাছিম হোসাইন, সিদ্দিক গাজীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন ও ছেলে আবু ইছা। ১৪ জনের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চারজন শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় আবু হাসান জানায়, আজিজুল গাজীদের সাথে নজরুল গাজীদের দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার জের ধরে বুধবার সকালে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে আইজুল গাজীদের পক্ষের ১১জন ও নজরুল গাজীদের পক্ষের ৩জন গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

আহত ফজলু গাজী বলেন, নজরুল গাজী ও মোশারাফ সহ দেশীয় অস্ত্রধারী ১০-১২ জনের একটি দল আকবর গাজী ও সিদ্দিক গাজীকে গুমানতলি গাজী বাড়ি মসজিদের সামনে ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এরপর রাস্তার উপর এসে আজিজুল গাজী ও আজবাহার গাজীকেও ব্যাপক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং হাত ভেঙে দেয়। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে এবং পর্যায়ক্রমে ১১ জনকে মারধর করে, দা, সাবল, চায়নিচ কুরাল দিয়ে ৫ জনের মাথায় বিভিন্ন অংশে কোপ মারে, কয়েক জনের হাত ভেঙ্গে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও কেটে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠিয়ে দেয়।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর দায়িত্ব চিকিৎসক ডাঃ স্নিগ্ধা বলেন, মারামারি সংক্রান্ত ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল, গুরুতর অবস্থা হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মর্জিনা ও মোশাররফ বাদে অন্যদের কয়েজনের হেড ইনজুরি সহ গুরুতর আহত। বাকি ৪জন এখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত মারামারির বিষয়টি শুনেছি এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২৩, ২০২৬)