প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না প্রকৌশলী সুব্রত
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৮:৪৭:৩৯
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ঝিনাইদহ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পালের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে ঠকাদারেরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও ফাইল নড়াতে অতিরিক্ত খরচ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে কোনো কাজ-নকশা অনুমোদন, বিল পাশ, কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের ছাড়পত্র সবকিছুতেই নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দাবি করা হয়। কেউ যদি এই অবৈধ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে নানা অজুহাতে তাদের কাজের বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়।
শাহজান লাভলু নামের এক ঠিকাদার বলেন, নিয়ম মেনে সব কাগজ জমা দিলেও মাসের পর মাস বিল আটকে থাকে। তবে কাজের মূল টাকার ৫ থেকে ৮ শতাংশ টাকা দিলেই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই কাজ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের এক কর্মচারী বলেন, নির্বাহী স্যার যখন যা ইচ্ছে তখন তাই করে। একরাতে এক নারীকে অফিসে আনেন। আমি পরিচয় জানতে চাইলে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চালালেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে শিক্ষা প্রকৌশলীর দপ্তরটি যেন একপ্রকার ঘুষের আখড়াতে পরিণত হয়েছে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, জেলার প্রত্যেকটা দপ্তর অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এসব যেন দেখার কেউ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল বলেন, আপনার যত ইচ্ছে লিখুন। আমার বিরুদ্ধে লিখে আপনি কিছুই করতে পারবেন না।
অভিযোগ রয়েছে, সুব্রত কুমার পাল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি সমর্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চলাচল শুরু করেন। আওয়ামী শাসনামল থেকে এখন পর্যন্ত নিজ স্বজনদের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল-কলেজের নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন তিনি নিজেই।
এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। ঝিনাইদহের শিক্ষা প্রকৌশলীর বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(এইচআর/এসপি/এপ্রিল ২৩, ২০২৬)
