ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

নড়াইলে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা, অভিযুক্তরা লাপাত্তা 

২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৯:২৮:২২
নড়াইলে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা, অভিযুক্তরা লাপাত্তা 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ অভিযুক্ত কোন আসামিকে আটক করতে পারে নাই। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের মোঃ হান্নান খানের ছেলে জাহিদ খান (৩৬) লোহাগড়া বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মার্কেটে 'খান গার্মেন্টস' নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিল। একপর্যায়ে লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি গ্রামের মৃত ইয়াসিন ঠাকুরের মেয়ে রুমা খাতুনের (২৭) সাথে জাহিদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী জাহিদ ও রুমার মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত রুমা কৌশলে ব্যবসায়ী জাহিদকে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের মশাঘুনির বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রুমার মা ফাতেমা বেগম ও খালা পরী বেগম পরস্পর যোগসাজগে ২৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর উল্লেখ করে জাহিদ ও রুমার বিবাহ সম্পন্ন করে।

ব্যবসায়ী জাহিদ রুমাকে বিয়ে করার পর শ্বশুর বাড়ি মশাঘুনি থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা জাহিদকে বশিভূত করে তার ব্যবসার প্রায় এক কোটি টাকা নানা কৌশলে হাতিয়ে নেয়।

এমতাবস্থায় ব্যবসায়ী জাহিদ অভিযুক্তদের মতলব বুঝতে পেরে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা কৌশলে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তারা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে।

অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী জাহিদকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে এবং তাকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করতে বাধ্য করে।

শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা জাহিদকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে যে, 'জমিজমা বিক্রি করে বিয়ের দেনমোহর বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা দে, যদি না দিতে পারিস, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা কর'।
এ সব বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে জাহিদের ব্যাপক ঝগড়াঝাঁটি হয়।

ঝগড়াঝাঁটির এক পর্যায়ে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) জাহিদ মশাঘুনি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের কাছে তার দেওয়া এক কোটি টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা জাহিদকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ঘরের ভেতর আটকিয়ে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওই দিন দিবাগত রাত ৯টার দিকে জাহিদ বিষপান করে। মুমূর্ষ অবস্থায় মশাঘুনি গ্রামের আজিবার মল্লিকের ছেলে আরিফুল মল্লিক ও রশিদ শিকদারের ছেলে রাজা শিকদারসহ স্থানীয়রা জাহিদকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জাহিদকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে জাহিদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ ঘটনায় খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আব্দুল মান্নান আত্মহণনকারী জাহিদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এর পর জাহিদের নিকট আত্মীয়-স্বজনরা তার লাশ গ্রামের বাড়ি বুড়িখালিতে নিয়ে আসে এবং জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় আত্মহননকারী জাহিদের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে উল্লেখিত ৩ জনকে আসামী করে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে লোহাগড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে আত্মহননকারী জাহিদের স্ত্রী মোসা: ফরিদা বেগম অভিযোগ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'অভিযুক্ত আসামীরা পরস্পর যোগসাজগে আমার স্বামীকে ব্লাক মেইল করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করতে বাধ্য করে এবং তাকে বশিভূত করে তার ব্যবসার প্রায় এক কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে তাকে বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে ব্যবসায়ী জাহিদের আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, এ সংক্রান্ত একটি এজাহার পেয়েছি এবং তদন্ত করে দ্রত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

(আরএম/এসপি/এপ্রিল ২৩, ২০২৬)