ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

বগুড়ায় মুচলেকা দিয়ে ম্যাডাম ডাকা হতে অব্যাহতি পেলেন পিকআপ চালক

২০২৬ এপ্রিল ২৪ ১৮:২৮:২৫
বগুড়ায় মুচলেকা দিয়ে ম্যাডাম ডাকা হতে অব্যাহতি পেলেন পিকআপ চালক

বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার শেরপুর থানার এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই)কে ম্যাডাম বলে সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক পিকআপ চালককে দেড় ঘণ্টা থানা হাজতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষেই এ ঘটনা ঘটে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)র হস্তক্ষেপে মুচলেকায় যুবককে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়। অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম রোখসানা খাতুন। তিনি গত বছরের ১৯ই এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপ চালক নূর মোহাম্মদ মামুনের এক বন্ধু একটি মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনা। মামুন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর থানায় যান। এ সময় এসআই রোখসানা খাতুন ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সালাম দেওয়ার পর এসআইকে ম্যাডাম বলে সম্বোধন করেন। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে মামুনকে তাৎক্ষণিক আটক করে থানা হাজতের একটি কক্ষে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মামুনের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা থানায় আসেন। দেড় ঘণ্টা পর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন বলেন, এসআইকে ম্যাডাম বলে সম্বোধন করে আমার বন্ধুর মামলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে আমাকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এসআই রোখসানা। আমাকে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুনকে আটক রাখার ঘটনা নতুন নয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগোও আছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তারা প্রায় তিন মাস আগে থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন ডিউটি অফিসার রোখসানা খাতুন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

ইমরান হোসেন নামে একজন জানান, পাঁচ মাস আগে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন রোখসানা খাতুন। এ নিয়ে তখন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রোখসানা খাতুন সবার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। তিনি যেদিন ডিউটিতে থাকেন সেদিন সহকর্মীরাও এক ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন।

এ বিষয়ে জানতে এসআই রোখসানা খাতুনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানার বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। ম্যাডাম বলে ডাকায় পিকআপ চালককে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।

(বিএস/এসপি/এপ্রিল ২৪, ২০২৬)