প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত
ফ্লোরিডা ট্র্যাজেডি: নিহত লিমন নিখোঁজ বৃষ্টিকে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১৮:২০:১১
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিকে বিয়ে করার ভাবছিলেন জামিল লিমন। তিনি বৃষ্টিকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে লিমনের পরিবারের সুত্রে জানা গেছে। লিমন বৃষ্টিকে 'ভালো মেয়ে' ও 'প্রতিভাবান' হিসেবেও বর্ণনা করতেন।
গত দুই বছর ধরে লিমন দক্ষিণ ফ্লোরিডার জলাভূমি সংকোচন পর্যবেক্ষণে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ওপর গবেষণা করছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল পিএইচডি শেষে বাংলাদেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় তার রুমমেটকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।
গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ ছিলেন বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। তাদের মধ্যে লিমনের মরদেহ শুক্রবার ট্যাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু-এ পাওয়া যায়। তবে বৃষ্টির এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।
লিমনের পরিবার জানিয়েছে, প্রাণবন্ত ও মেধাবী এই তরুণ গবেষকের কী ঘটেছে তা জানতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম জানান, তদন্ত চলাকালে এবং বৃষ্টিকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং সহায়তা প্রদান করবে। তিনি বলেন, জামিলের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং নাহিদার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দোয়া করুন।
রুমমেট আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল
গ্রেপ্তারের আগে সন্দেহভাজন আবুগারবিয়েহকে অন্তত দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। শুরুতে তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও বৃহস্পতিবার পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় সহযোগিতা বন্ধ করে দেন।
শুক্রবার তদন্তকারীরা তাকে মামলার সঙ্গে এবং লিমনের মরদেহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান বলে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি বাড়ির ভেতরে নিজেকে আটকে রাখেন, ফলে সোয়াট টিম ও সংকট-সমাধানকারী দল মোতায়েন করতে হয়। পরে তাকে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়।
পরিবারের শোক ও উদ্বেগ
লিমনের ছোট ভাই জানান, মরদেহ উদ্ধারের আগে পরিবারটি গভীর যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছিল।
তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য ভয়াবহ। আমরা যেন অনুভূতিশূন্য হয়ে যাচ্ছি। কী ঘটেছে তা জানতে চাই দুইজন মানুষ হঠাৎ এভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে না।
পুলিশ জানায়, ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে লিমনকে সর্বশেষ তার বাসায় দেখা যায়। তিনি ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালায় পিএইচডি করছিলেন।
বৃষ্টিকে একই দিন প্রায় এক ঘণ্টা পরে ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।
পরদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর তদন্ত শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার তাদের “ঝুঁকিপূর্ণ নিখোঁজ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজ বৃষ্টিকে খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
(আইএ/এসপি/এপ্রিল ২৫, ২০২৬)
