প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ঝুঁকিতে ছয় গ্রামের মানুষ
ফরিদপুরে কুমার নদের উপর সেতু না থাকায় রশি টেনে পারাপার
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১৮:২২:৫৩
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, নগরকান্দা : সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত ছয় গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। শত বছরের এই ভোগান্তি যেন এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলার কল্যাণ পট্টি, আইনপুর, সাভার, কুমারকান্দা ও বাঘুটিয়া এবং সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের মানুষদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারসহ সব প্রয়োজনেই এই নদী পার হতে হয়। কিন্তু কোনো সেতু না থাকায় বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ রশি-নির্ভর পারাপার ব্যবস্থা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
কল্যাণপট্টি গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, “শত বছর ধরে আমরা রশি টেনে নদী পার হচ্ছি। কিছুদিন আগে আমার হাত থেকে আমার নাতি নদীতে পড়ে যায়। পরে আমার ছেলে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে। অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, আবার খেয়া পারাপারে মাসে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমরা এই নদীর ওপর একটি সেতু চাই।”
সাভার গ্রামের রফিক শেখ বলেন, “স্কুলগামী ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য এই পারাপার খুবই কষ্টকর। প্রায়ই তারা পড়ে যায় নদীতে। স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন দৃশ্য সত্যিই দুঃখজনক।”
স্থানীয় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার, যা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর বলেন, “বিষয়টি আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—কুমার নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হয়।
(পিবি/এসপি/এপ্রিল ২৫, ২০২৬)
