প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
নড়াইলে নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন কাজ
জরিমানার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলন
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১৮:৪৭:৪০
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত মধুমতী-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ড্রেজিং এর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্প (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নবগঙ্গা নদীর দুই (২) কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ফেরত প্রদানের বিষয়টি পুনঃর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে লোহাগড়া শহরের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি তুষার কান্তি দাস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মধুমতী-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্প (১ম সংশোধিত) শীর্ষক' প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের আওতায় নবগঙ্গা নদীর ২ কিলোমিটার নদী পুন:খননের কাজ বাস্তবায়নের জন্য বিগত ২০২০ সালের ১৮ মার্চ নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তরের W-0-loha-Noboganga-41 নং স্মারকে মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোম্পানি লিমিটেড কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়।
কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নদী পুন:খনন কাজের অনুমোদিত নকশা (ডিজাইন) অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চালু রয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল বিকালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া নামক স্হানে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উপস্থিত থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত প্রতিনিধিকে ১,৭০,০০০/ ( এক লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং উক্ত জরিমানার টাকা নিয়ে যান।
এ সময় উক্ত প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা কাজটি 'পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিকট রয়েছে এবং কাজটি নির্ধারিত ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে' বলা হলেও ইউএনও তাতে কর্ণপাত করেন নাই।
এ ঘটনার পর জরিমানা টাকা ফেরত পাওযার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নড়াইলের জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি পুন:র্বিবেচনার জন্য আশ্বস্ত করেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উক্ত প্রকল্পের খননকৃত বালি-মাটি বিগত ২০২২ সালের ৯ মার্চ নড়াইল জেলা প্রশাসক কর্তৃক উক্ত প্যাকেজের বালি-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকট হস্তগত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি আরও বলেন, আগামী জুন মাসে নবগঙ্গা নদীর পুনঃখননের কাজ শেষ হবে। নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এমতাবস্থায় জরিমানার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।
(আরএম/এসপি/এপ্রিল ২৫, ২০২৬)
