ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ফুলপুরে ভোগান্তিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবাররা

২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৮:১২:৫৩
ফুলপুরে ভোগান্তিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবাররা

মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফুলপুর : ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে বসবাস করছেন। নিচু ভূমির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, চলাচলের রাস্তার অভাব ও ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি পড়ার মতো সমস্যায় চরম ভোগান্তির অভিযোগ সুবিধাভোগীদের। প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ পাওয়া বেশ কিছু পরিবার আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকেন না। ৮ পরিবারের একটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ৭টি পরিবারই অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। সকল প্রকল্পের নির্মিত ঘরগুলো খুবই নিম্নমানের। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অধিকাংশ ঘরের চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছনধরা ইউনিয়নের হাটপাগলা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকেল্পের ৮ পরিবারের জন্য নির্মিত ৮টি ঘরের মধ্যে ৭টিই খালি পড়ে আছে। একটি ঘরে একটি পরিবারকেই সেখানে বসবাস করতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে খালিঘরে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি জুয়াখেলার মতো অসামাজিক কার্যক্রম চালায় বলে এলাকাবাসী অনেকেই অভিযোগ করেন। শুরুতে ৮টি ঘরে লোকজন থাকলেও আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৭টি পরিবার ঘর ছেড়ে চলে যায়। সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোকামিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ১০ পরিবারের মধ্যে বসবাস করেন ৮ পরিবার। এ প্রকল্পের ভূমির উচ্চতা পাশ্ববর্তী ফসলি জমির প্রায় সমান ও ঘরের ভিটিও বেশ নিচু। ফলে বর্ষাকালে আঙিনা ও ঘরের বারান্দা পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া একটিমাত্র নলকূপ সকল পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয় বাসিন্দারা জানান।

প্রকল্পের বাসিন্দা জোছনা বেগম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় বাসিন্দাদের অনেকটা ঘুরে জমির আল দিয়ে চলাচল করতে হয়।

ফুলপুর সদর ইউনিয়নের নগুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৩৬ পরিবারের জন্য নির্মিত ৩৬টি ঘরের মধ্যে ৫টি ঘরে কোনো লোকজন নেই। এই প্রকল্পে পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাথরুম ও টয়লেটে পানি জমে থাকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। এ ছাড়া চারদিকের ফসলি জমি ও প্রকল্পের আঙিনার উচ্চতা প্রায় সমান হওয়ায় সারা বর্ষায় আঙিনা পানিতে তলিয়ে থাকায় ঘর থেকে বের হলেই প্রায় হাঁটুপানি। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রকল্পের বাসিন্দা জেসমিন বলেন, পানি জমে থাকার কারণে বাথরুম ও টয়লেট মোটেও ব্যবহার যায় না। রূপসী ইউনিয়নের রূপসী গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ৫ পরিবারের মধ্যে একটি নলকূপ থাকলেও তা অকেজো পড়ে আছে। ফলে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। বালিয়া ইউনিয়নের সলংগা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫টি পরিবারের মধ্যে ৫টিতে কোনো লোক পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কেউ মাঝে মধ্যে আসেন বলে জানান অন্যান্য বাসিন্দারা। এ প্রকল্পের মূল ভূমির উচ্চতা পাশ্ববর্তী ফসলি ভূমির সমান হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আঙিনা প্রায় হাঁটু পানিতে তলিয়ে থাকে। এ ছাড়া নিকটবর্তী রাস্তা থেকে আবাসন প্রকল্পটির দূরত্ব ২শ’ গজের মতো হলেও যাতায়াতের কোনো পথ নেই বললেই চলে। বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িঘর হয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে কেন্দ্রের সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উপজেলার ৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ৭৪ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৪টি ঘরের ১৯টিতে কোনো লোকজন থাকে না। তাদের কেউ কেউ জীবিকার তাগিয়ে দূরে অবস্থান করেন, আবার কারো কারো নিজস্ব বাড়িঘর রয়েছে। প্রায় সকল আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ভূমি নিচু থাকায় বাসিন্দারা বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা শিকার হন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ছনধরা ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭টি ঘর খালি থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য আশ্রয়ণ কেন্দ্রের অব্যবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

(এসআই/এসপি/এপ্রিল ২৬, ২০২৬)