প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে নিজের সুবিধার্থে রাস্তা তৈরির চেষ্টা, সংঘর্ষে আহত ১
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৮:৫৩:৫৮
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : নিজের সুবিধার্থে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে রাতের আঁধারে গাছ গাছালি লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন জখম হয়েছে।
আজ ররিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুইজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি ও আটজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খায়রুল বাসার শিমুল জানান, সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামে তার জন্ম। ছোট বেলায় বাবা গোলাম সরোয়ার মারা যান। এরপর মা তাকে নিয়ে আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ায় নানা সামছুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে আসে।নানার বাড়ির পাশে জমি কিনে সেখানে বসবাস করেন তারা।
খায়রুল বাসার শিমুল আরো জানান, তার বড় নানা জামাল সরদারের পাঁচ মেয়ের কাছ থেকে সম্প্রতি ফারাজির অংশের জমি কেনেন প্রতিবেশি মোঃ সাইফুল্লাহ ওরফে গণি। এ ছাড়াও নিজের বাড়ির পাশে আরো দুটি প্লট জমি কিনেছেন সাইফুল্লাহ। এ ছাড়াও রহিম গাজীর বাড়ির পাশে ডোবা কিনে তা ভরাট করে নিয়েছেন মোঃ সাইফুল্লাহ। ওইপ্লটসহ তার কেনা বা বায়নাপত্র করে নেওয়া জমির পজিশান ভাল করার জন্য সাতক্ষীরার আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সামনে ও নিজ বাড়ির পাশ দিয়ে মাঠের দিকে যাওয়ার দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত মিরাজ সরদারের নির্মিত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা পরিবর্তণ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন অ্যাড. মোঃ সাইফুল্লাহ। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে রাতে সে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তার ইট তুলে ফেলে মুখের কাছে প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেন। ওই রাস্তা ঘুরিয়ে তিনি রহিম গাজীর বাড়ির সামনে দিয়ে তার খাটা খরাটি জমির পাশ দিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরপর শুক্রবার ও শনিবার রাতে তিনি ইট তুলে ফেলা রাস্তার উপর বেড়া দিয়ে ঘিরে গাছ গাছালি লাগাতে শুরু করেন। রবিবার সকাল সাতটার দিকে তার মামা আসাদুজ্জামান, আজাহারুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলামসহ ওই পথ ব্যবহারকারি কয়েকজন সাইফুল্লার নতুন লাগানো বেড়া ও গাছ গাছালি তুলে ফেলেন। বাড়ির দোতলা থেকে এ দৃশ্য ভিডিও করে পরে মোবাইল করে তার কয়েকজন ভাড়াটিয় সশস্ত্রা সন্ত্রাসীকে ডেকে আনেন।
এ সময় তার মামাসহ অন্যরা বাড়িতে চলে যায়। পরে মামাদের বাড়ির সামনে যেয়ে মোঃ সাইফুলের নির্দেশে তার ভাই রণি, ফজলু, বজলু, মজনু, মঈনুর, শাহীন, মিঞারাজ, লিয়াকতসহ কয়েকজন ধারালো দা দেখিয়ে খুন করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা চলে যায় আলিয়া মাদ্রসা মোড়ে। সেখানে যেয়ে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য তাকে (শিমুল) মোবাইল ফোনে ডাকে বজলু। তিনিসহ কয়েকজন মাদ্রাসা মোড়ে যাওয়ার আগেই বজলু ও ফজলুসহ কয়েকজনের হাতে ধারালো দা দেখতে পান তিনি (শিমুল)। ফজলু বজলুসহ কয়েকজন তাদের দিকে দৌড়ে আসতে থাকলে তারা চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে হামলাকারি ফজলু তার হাতে থাকা দা দিয়ে তার মাথায় কোপ মারে। এ ছাড়া মঈনুর ও শাহীনসহ অন্য হামলাকারিরা তার চার মামাসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে ফজলু, বজলু ও জাহিদ বাবু মাটিতে পড়ে সামান্য আহত হয়। তাকেসহ (শিমুল) তাদের পক্ষে আহত সাতজনকে এম্বুলেন্সে করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে ভর্তি করা হলেও অন্য ছয়জন জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
এদিকে অ্যাড. মোঃ সাইফুল্লাহ জানান, তার ক্রয়কৃত জমির গাছ গাছালি কেটে তছনছ করেছে প্রতিবেশি আসাদুজ্জামান, আজাহারুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম, শিমুলসহ বেশ কয়েকজন। বাধা দেওয়ায় ফজলু, বজলু ও জাহিদ বাবুকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে ফজলুকে ভর্তি করানো হয়। অন্য দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষরা তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল দাবি করে বলে জানালেও মোঃ সাইফুল্লাহ চাঁদা দাবিদারদের নাম বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অ্যাড. সাইফুল্লাহ এর পক্ষ থেকে থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২৬, ২০২৬)
