ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎবিহীন একরাত 

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সোনাতলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:২৯:০৬
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সোনাতলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলায় কালবৈশাখী তান্ডবে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি। ভেঙেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি একরাত বিদ্যুৎ বিহীন উপজেলাবাসী।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা করেছিলেন কৃষকরা। উপজেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে বোরো ধানের আবাদও হয়। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গত রবিবার দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রবল বাতাসে মাঠের আধাপাকা ধান শুয়ে পড়ে। এর সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ে রাস্তাঘাট ও বাগানের গাছপালা ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং অনেক বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো উপজেলা এক রাত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটায়।

উপজেলার কৃষক পিযুষ চন্দ্র রায় জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন এবং ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে তার জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। জমিতে পানি জমে থাকায় আধাপাকা ধান থেকে নতুন অঙ্কুর গজানোর আশঙ্কা রয়েছে, ফলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে। এতে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর গাছ ও ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, কালবৈশাখীর প্রভাবে বোরো ধান, পাট ও শাকসবজি সহ প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে সোনাতলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, ঝড়ে পুরো উপজেলা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৩৩ কেভি লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে, ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তাদের সব জনবল কাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

(বিএস/এসপি/এপ্রিল ২৭, ২০২৬)