ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে

২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৭:৫৭:২৭
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে

শিতাংশু গুহ


শেখ হাসিনা ফ্যাসিষ্টও না স্বৈরাচারও না। ফ্যাসিষ্ট ছিলেন ড. ইউনুস। স্বল্প সময়ে ইউনুস দেশের অনেক ক্ষতি করে গেছেন। শেখ হাসিনা দেশের অনেক উন্নতি করেছেন, তিনি দেশের যে ক্ষতিটা করেছেন, এর খেসারত হিসাবে নিজেও এখন ভুগছেন। হ্যাঁ তিনি দেশে মৌলবাদের সাথে আপোষ করেছেন, মদিনা সনদ কায়েম করেছেন, কওমী মাতা হয়েছেন, দেশের কোনায় কোনায় উন্নত মসজিদ তৈরী করেছেন এবং সর্বোপরি প্রগতিশীল শক্তির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এই ঢাকা ভার্সিটি তিনি অল্প শিক্ষিত মাদ্রাসা ছাত্র দিয়ে ভরে দিয়েছেন। এই ছাত্ররাই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতে ছিলেন ৬বছর। মোল্লাদের খুশি করতে শেষের দিকে শেখ হাসিনা ভারতকে বাদ দিয়ে চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং মূলত: এ কারণে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। আওয়ামী লীগ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যাচ্ছেতাইভাবে অবজ্ঞা করে, অথচ তিনি জানতেন যে, ২০০১-এ তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন?

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে। শেখ হাসিনা এটি করে দিয়েছিলেন বলে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং এমপি’রা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংসদে বসে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বঙ্গবন্ধু দেশটা স্বাধীন করে দিয়েছিলেন বলেই রাজাকাররা দেশে বসে আস্ফালন করতে পারছে। দেশে হামে শিশু মরছে, অর্থনীতি ধ্বংস প্রায়, মব ভায়োলেন্স, নারী নির্যাতন, হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ চলছেই। মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে গেছে। জুলাই ৩৬-যে ষড়যন্ত্র যে জামাত-রাজাকারের উত্থান দেশের মানুষ সেটি বুঝেনি, এখন বুঝতে পেরে বলছে, শেখ হাসিনাই ভাল ছিলো। কিন্তু জামাত-বিএনপি কি ক্ষমতা ছেড়ে দেবে, বা ছেড়ে দেয়ার জন্যে ক্ষমতায় এসেছে? এখন যে, বিএনপি-জামাত ঝগড়া দেখছেন, সেটি পাতানো খেলা, আওয়ামী লীগের প্রশ্ন উঠলেই বিএনপি-জামাত এক, এনসিপি ‘ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার’ মত ‘ভ্যাঁ ভ্যাঁ’ করবে। জুলাই ৩৬- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, বিএনপি-জামাতকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। জুলাই ৩৬-র সুফল ভোগ করছে স্বাধীনতা বিরোধীরা, বিএনপি ক্ষমতায়, জামাত গৃহপালিত বিরোধী দল। এনসিপি গুপ্ত-জামাত।

আওয়ামী লীগ কঠিন সময় পার করছে। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আওয়ামী যতটা কঠিন সময় পার করেছিলো এবারকার সংগ্রাম আরো কঠিন। তবে প্রক্রিয়াটি একই, গ্রাউন্ড থেকেই আন্দোলন গড়ে উঠতে হবে। এনিয়ে পরে লিখবো, কারণ আমি নিজেও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কলকাতা ছিলাম। আপাততঃ সংগঠন শক্তিশালী করা দরকার। ইউনুস আমলে আন্দোলন যতটা সহজ ছিলো, এখন তা নয়, সদ্য নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকারকে হেলানো এতটা সহজ নয়? দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীরা নেতাদের ওপর বিরক্ত, কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি, অর্থকষ্টে এদের অনেকের জীবন ওষ্ঠাগত। কর্মী না বাঁচালে দল বাঁচবে না? আওয়ামী লীগ দিবাস্বপ্ন না দেখে রূঢ় বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১- অতীতের এ সময়টা পিছন ফিরে নুতন করে দেখতে হবে, ভাবতে হবে, কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়? দেশে এরমধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী কোন ঘটনা ঘটলে ভিন্ন কথা, অন্যথায় পুরানো রাস্তা ধরেই সামনে এগুতে হবে। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগের মৌন জনসমর্থন আছে, এ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায়না। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় যাবে, কবে তা কেউ জানেনা, শুধু এটুকু বলা যায়, আগের মত ২১ বছর হয়তো লাগবে না?

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।