ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

মহম্মদপুরে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে রঙিন কৃষ্ণচূড়া 

২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৪:১৭:২৫
মহম্মদপুরে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে রঙিন কৃষ্ণচূড়া 

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ যখন চারপাশের প্রকৃতি কিছুটা বিবর্ণ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই কৃষ্ণচূড়ার ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে।

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠের প্রখর রৌদ্রে প্রকৃতির বুকে যেন নতুন করে রঙের উৎসব নিয়ে হাজির হয়েছে এই অপরূপ কৃষ্ণচূড়া ফুল।

দূর থেকে তাকালে মনে হয়, প্রতিটি গাছে যেন আগুন জ্বলছে। তবে সে আগুনে নেই কোনো দহন-আছে কেবল সৌন্দর্যের উচ্ছ্বাস,আছে প্রকৃতির নীরব মুগ্ধতা। উজ্জ্বল লাল,কমলা-লাল ও আগুনরঙা ফুলে ভরে ওঠা কৃষ্ণচূড়া গাছ গ্রীষ্মের অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কৃষ্ণচূড়া গাছ সাধারণত বড় আকৃতির এবং ছাতার মতো বিস্তৃত ডালপালাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। মৃদু বাতাসে ফুলে ভরা ডালগুলো যখন ধীর লয়ে দুলে ওঠে, তখন তা যেন জীবন্ত এক শিল্পকর্মের রূপ নেয়। মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, স্কুল-কলেজের আঙিনা ও গ্রামবাংলার খোলার মাঠজুড়ে এখন চোখে পড়ছে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘন সবুজ পাতা গ্রীষ্মের প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেয় এবং প্রকৃতিতে শীতলতার আবহ তৈরি করে। পাশাপাশি এই ফুল জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলা সাহিত্যেও কৃষ্ণচূড়ার রয়েছে বিশেষ স্থান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃতির রঙ ও ঋতুবৈচিত্র্যের বর্ণনায় বারবার রক্তিম ফুলের সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বাংলার প্রকৃতির আবেগময় রূপচিত্র আঁকতে কৃষ্ণচূড়ার মতো রঙিন ফুলের অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন,যা প্রেম, স্মৃতি ও বিষাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি ফুল নয়, এটি গ্রীষ্মের পরিচয়, বাংলার প্রকৃতির উজ্জ্বল স্বাক্ষর এবং মানুষের আবেগ-অনুভূতির এক অনন্য প্রতীক। আগুনরাঙা এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা,উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রূপমাধুর্য।

(বিএসআর/এএস/এপ্রিল ৩০, ২০২৬)