প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
গোপালগঞ্জে ৩২ পরিবার অবরুদ্ধ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৪:২৬:৫৩
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে চলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সাঁকোর একটি অংশ। এতে ৩২ টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যাতায়াতে ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওইসব পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া ধানসহ কৃষি পণ্য পরিবহনে প্রতিবদ্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে গত ২১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফ রাস্তার মাটি কেটে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা এ রাস্তার মাঝে সরকারি খালের ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের সাঁকো একটি অংশ ঙেঙ্গে দিয়েছে। এতে যাতায়াতে ৩২ পরিবারের দুর্ভোগের শেষ নেই। আবেদন পত্রে দ্রুত বেড়া ভেঙ্গে পরিবারগুলোর যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে ।
সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন সরদার, জাহিদ খান বলেন, গ্রামের লেবু শরীফের বাড়ি থেকে জাহিদ খানের বাড়ি পর্যন্ত ৫শ’ ফুট রাস্তা ও খালের ওপর একটি সাকো সরকারি টাকায় নির্মাণ করা হয় । ১৩ বছর ধরে এ রাস্তা ও সাঁকো দিয়ে এলাকার ৩২ পরিবার সহ আশপাশের পরিবারের অন্তত ৪শ’ মানুষ চলাচল করে আসছেন। ১৫ এপ্রিল আমাদের গ্রামের স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফসহ অন্যান্যরা প্রায় ১শ’৫০ ফুট রাস্তা কেটে ফেলে। পরে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এছাড়া খালের সাকোঁর একটি অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে। এছাড়া রাস্তার মধ্যে রমজান ও স্বপন শরীফ ঘর তুলেছে। এতে ৩২ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে । ফলে যাতায়াতে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।
ওই গ্রামের গৃহবধূ অরিফা বেগম বলেন, ধান কাটা মৌসুম চলছে। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ধান আনা নেওয়া যাচ্ছে না। ধান কেটে ক্ষেতে রাখতে হচ্ছে। বাড়ি আনা যাচ্ছে না। ফলে পাকা ধান নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
অভিযুক্ত রমজান শরীফ ও স্বপন শরীফ বলেন, আমরা বাড়িতে ছিলাম না, এই সুযোগে আমাদের জায়গার উপর রাস্তা করা করা্ হয়েছে। আমরা চলাচলের রাস্তা দেব না। তাই রাস্তা কেটে আমাদের জায়গায় ঘর তুলছি। বেড়া দিয়েছি, মানুষ যাতায়াত করতে দেব না।
পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য পিল্টন শিকদার বলেন, সরকারি রাস্তা তারা বন্ধ করতে পারে না। এছাড়া তারা সাঁকোর একটি অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে। রাস্তা বন্ধ করার পর স্থানীয়রা কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। তারপর রামদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আমাকে বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে বলেন। আমি বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি ।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহিন মিয়া বলেন, স্থানীয়রা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা এটি আমলে নিয়েছি। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। আমরা দু’ পক্ষকে ডাকব। তারপর সমাধান না হলে, আমরা বেড়া ভেঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
(টিবি/এএস/এপ্রিল ৩০, ২০২৬)
