ঢাকা, রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

দুর্নীতির কালো ছায়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাম্মেল

২০২৬ মে ০৩ ১৮:০১:৫৯
দুর্নীতির কালো ছায়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাম্মেল

হাবিবুর রহমান রুবেল, ঝিনাইদহ : দেশে জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা এবং সে লক্ষে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসমূহ পরিচালনা করতেই মূলত গঠন করা হয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এর বাইরেও অসংখ্য কাজ রয়েছে এ কর্তৃপক্ষের। বস্তুত তা জানা থাকলেও কাজে হচ্ছে তার উল্টো। ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এখন অনিয়ম-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত লুটতরাজদের আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল করিমের অদৃশ্য ইশারায় চলছে নিয়োগ, বদলি আর পদোন্নতির তুঘলকি কারবার। অন্যদিকে বদলির ক্ষেত্রেও টাকা ছাড়া কোনো কাজ হচ্ছে না। ঝিনাইদহে বসেই তৈরি করেছেন বদলি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে খোদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করেই ঘুষ বাণিজ্যের ফন্দি-ফিকির করেন ওই সিন্ডিকেট। কখনো কখনো সচিব, মহাপরিচালকের দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত কার্যকর হতে দেয় না সিন্ডিকেট।

সূত্র জানায়, আওয়ামী শাসনামলে ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ছিলেন মোজাম্মেল করিম। সে সময় উপপরিচালক ডা. জাহিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেন মোজাম্মেল। এরপর অবসরে চলে যান ডা. জাহিদ। তখন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হন মোজাম্মেল করিম। তখন থেকে নিজের বলয় তৈরি করে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি জড়িয়ে পড়েন মোজাম্মেল। নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ছাড়াও বরাদ্দের অর্থ তছরুপ, সরকারি ওষুধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক বলেন, মূলত এই ডিডি স্যারের শক্তিতেই জেলা কার্যালয়ে সকল অবৈধ কার্যক্রম চলে। আমরা তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই আমাদের নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, মোজাম্মেল করিম সব আমলেই পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় লুটেপুটে খেয়েছে। এত অপকর্ম করার পরেও তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না এটা বুঝতে পারি না।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মেল করিম বলেন, আমাকে নিয়ে শুধু শুধু অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর কোনো মানে হয় না। অন্যান্য দপ্তরে গিয়ে দেখেন এর চেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে।

(এইচআর/এসপি/মে ০৩, ২০২৬)