প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ, ‘আইফোন-বাণিজ্য’র অভিযোগ
২০২৬ মে ০৩ ১৮:৫৪:১১
রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাহাড়ের এই জনপদ। ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে আজ রবিবার সকালে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পদবঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ—অর্থ ও আইফোনের বিনিময়ে অছাত্র, বিবাহিত এবং বহিরাগতদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২৩ সদস্যের এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে রবিবার সকালে শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও অবরোধ সৃষ্টি করলে দীর্ঘ সময় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভ চলাকালীন নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে শোনা যায়— “টাকা লাগলে টাকা নে, নতুন করে কমিটি দে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেন, “যিনি রাঙ্গামাটি শহরের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেই কোনোদিন যুক্ত ছিলেন না, তেমন একজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দাকে শহরের নেতৃত্ব দেওয়া আমরা মেনে নেব না।”
আরেক নেতা ও যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, মোটা অংকের টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে নিয়মিত ও ত্যাগী ছাত্রদের বাদ দিয়ে এই আংশিক কমিটি করা হয়েছে। এই পকেট কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথের আন্দোলন চলবে।
কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়। তৃণমূলের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির অধিকাংশ সদস্যই অছাত্র এবং অনেকেই বিবাহিত, যা ছাত্রদলের সাংগঠনিক পরিপন্থী।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদল একটি বিশাল সংগঠন। এখানে সবার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব হয় না। পদ না পেয়ে কিছু নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হতে পারেন, এটা স্বাভাবিক। তবে আমি সবাইকে শান্ত থেকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
(আরএম/এসপি/মে ০৩, ২০২৬)
