ঢাকা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক অনিমেষ মুক্ত, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

২০২৬ মে ০৪ ১৯:১৪:৪২
শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক অনিমেষ মুক্ত, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : অবশেষে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালের দিকে তাকে সুন্দরবনের ধোলাই খাল থেকে একটি জেলে নৌকা করে মীরগাং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তাকে সকাল সাড়ে ১০টায় সুন্দরবন বাজারে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে অপহরণের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন(৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর জব্বার(৩৫) ও নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০)।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের বৈশখালি গ্রামের নিতাই পরমোণ্যের ছেলে প্রিয়নাথ পরমান্য জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার দাদা পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে সুন্দরবন বাজার থেকে রোগাক্রান্ত এক গরু চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে অপহরণ করা হয়। পরে তার মুক্তির জন্য দাদার মুঠোফোন থেকে বউদি সবিতা রানীর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি শনিবার রাতে শ্যামনগর থানায় ১০০ নং মিসিং ডায়েরী করেন। এরপর থেকে প্রশাসন দাদাকে উদ্ধারে চিরুনি তল্লাশী শুরু করেন। একপর্যায়ে বনদস্যুদের কথামত তারা সাত লাখ টাকার বিনিময়ে দাদাকে ফিরে পাওয়ার জন্য রবিবার রাত ৯টার দিকে মীরগাং এলাকায় যান বউদি সবিতা রানী পরমান্য ও তার ভাই দেবদাস। পুলিশের তৎপরতার ফলে বনদস্যুরা সোমবার পৌনে ১০টার দিকে ধলাই খাল থেকে বনদস্যুদের সহযোগী মীরগাং এলাকার শাহীনুরের জেলে নৌকায় তুলে দেয়। মীরগাং থেকে তাকে একটি মটর সাইকেলে সুন্দরবন বাজারে নেওয়া হয়। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অপহৃত অনিমেষ মণ্ডল জানান, ট্যাংরাখালি গ্রামের আনছার ঢালীর ছেলে বর্তমানে কৈখালি গ্রামের বৈশখালি গ্রামে বসবাসকারি আশরাফ আলী তাকে ভারতীয় অসুস্থ গরু চিকিৎসার কথা বলে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবন বাজার থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে সুন্দরবনের মধ্যে নিয়ে তারই মোবাইল থেকে স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ সময় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়।

মীরগাং গ্রামের শাহীনুর জানান, রবিবার সন্ধ্যায় একই এলাকার মাহামুদুল ও জব্বার তাকে বিকাশে টাকা ও অনিমেষকে খাবার দিয়ে আসতে বলে। সে অনুযায়ী তিনি অনিমেষ পরমান্যকে ধলাই খালে পারে খাবার দিয়ে আসেন। এ সময় সেখানে আশরাফ আলী, তার ভাই চেঞ্জিস রবিউলসহ (২০১৮ সালে র‌্যাব এর কাছে আত্মসমর্পণকারি) তিনজন উপস্থিত ছিল।

তবে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মীরগাং গ্রামের সাগর ভাংগির স্ত্রী মক্ষীরানী প্রিয়ঙ্কা ম-ল. জেলেখালির আনারুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে মাহামুদুল হাসান ডন, আব্দুল জব্বার, রবিউল ও আফছার শনিবার সকালে ডাঃ অনিমেষকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। আব্দুর জব্বারের বিরুদ্ধে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায় সিআর ৯/২১ নং প্রতারণা মামলা, শ্যামনগর থানায় গত বছরের ২ অক্টোবর হত্যা চেষ্টা মামলা, মাহামুদুল হাসান ডন এর বিরুদ্ধে শ্যামনগর বিচারিক আদালতে মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান জানান, রবিবার রাতে কিছু টাকাসহ সবিতা ও তার ভাই দেবদাসকে নিয়ে যতীন্দ্রনগর ও মীরগাং এলাকায় অবস্থান করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারিরা আর যোগাযোগ করেনি। একপর্যায়ে সোমবার সকাল ১০ টায় কোষ্টগার্ড, পুলিশ ও বনবিভাগ যৌথ অভিযান শুরু করার আগেই বনদস্যুরা ডাঃ অনিমেষকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপহরণের সাথে জড়িত আফছার ও রবিউলসহ অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহামুদুল হাসান, শাহীনুর ও জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাঃ অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে সোমবার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামিকাল মঙ্গলবার প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমা- আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ডাঃ অনিমেষ পরমান্য। সাড়ে ১০টার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুপুর একটার পর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে অনিমেষের ফোন থেকেই তার স্ত্রীর ফোনে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়।

(আরকে/এসপি/মে ০৪, ২০২৬)