প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে নারীর মৃত্যু
২০২৬ মে ০৭ ১৯:৩৪:১৪
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য হামের উপসর্গে নূরজাহান (৩৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু বরণ করেন।
নূরজাহান গোপালগঞ্জ শহরের নবীণবাগ এলাকার শাহাবুদ্দিন সিকদারের মেয়ে। গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ ওই নারীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ৩ মে ওই নারী জ্বর কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার ডায়াবেটিক ছিল। বুধবার তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। কি কারণে তারা মৃত্যু হয়েছে, তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ১৬ শিশু-কিশোর, ১ নারী ও ২ পুরুষ সহ ১৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ হাসপাতালে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও খুলনা জেলার রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। গত মাসের ৬ এপ্রিল আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়। এ হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়। এরেমধ্যে ২৮ জনের দেহে হাম সনাক্ত হয়। সনাক্ত সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখান থেকে এ পর্যন্ত ৬৬৮ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কদমতলা গ্রামের রোগী খাদিজাতুল কোবরার (৩) মা সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত ১০ দিন ধরে আমার মেয়ের জ্বর। এতদিন মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু কোন পরিবর্তন হয়নি। ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের পরামর্শে আমার মেয়েকে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামের হাসিব মোল্লার স্ত্রী রুমা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে আমার মেয় হালিমা খানমের (৬ মাস) জ্বর শুরু হয়। ওই দিন ১০ টাকার টিকেট কেটে মেডিকেল কলেজের আউটডোরে ডাক্তার দেখাই। তিনি হাসপাতালে ভর্তির কথা বলে ওষুধ লিখে দেন। গ্রামের বাড়ি গিয়ে মেয়েকে ওষুধ খাওয়াই, কিন্তু কোন পরিবর্তন হয়নি। পরে গ্রাম্য ডাক্তার দেখাই। তার ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর একটু কমে। পরে আবার ৩ /৪ ঘন্টা পর-পর জ্বর দেখা দেয় । সোমবার থেকে মুখে দানাদান ওঠে। মঙ্গলবার শরীর ফুলে যায়। গ্রামের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। ওই দিন তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসায় মেয়ের আবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
(টিবি/এসপি/মে ০৭, ২০২৬)
