ঢাকা, শনিবার, ৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ

২০২৬ মে ০৮ ১৮:৫০:২৬
পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ১০ বছরের শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ভুক্তভোগি শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের।

নির্যাতিতা ওই শিশুর অভিযোগ, একই বাড়ির চাচাতো বোন মেঘা বাড়ৈ ফুসলিয়ে তাকে মেঘার শশুর বাড়ি মোকছেদপুর উপজেলার খালকুলা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভগরত ঢালী (৩৮) নামের বিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে জোরপূর্বক ভাবে তাকে বিয়ে দেয় মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী। পরবর্তীতে ওই যুবক তার (শিশু) ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারিরিক সম্পর্ক করে। এসময় সে কান্নাকাটি করে বাড়িতে আসার চেষ্টা করলে যুবক ভগরত ঢালী তাকে জানায় যে, ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মেঘা ও তার স্বামীর কাছ থেকে তাকে ক্রয় করেছে।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই শিশুকে ১২ দিন আটকে রেখে যৌণ নির্যাতনের পাশাপাশি শারিরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর দিনমজুর পিতা অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ এপ্রিল রাতে আমার ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যা নিখোঁজ হয়। এঘটনায় ২৭ এপ্রিয় গৌরনদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করি। বুধবার (৬ মে) জানতে পারি আমার মেয়েকে গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলা এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করে মেয়েকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছি। মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর জানতে পারি, একই বাড়ির কমল বাড়ৈর কন্যা মেঘা বাড়ৈ আমার শিশু কন্যাকে কৌশলে অপহরণ করে মোকছেদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলাস্থ শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের কাউকে না জানিয়ে আমার শিশু কন্যাকে ৩৮ বছরের বয়স্ক ভগরত নামের এক যুবকের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়।

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ১২ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার মেয়ের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই শিশুকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(টিবি/এসপি/মে ০৮, ২০২৬)