ঢাকা, শনিবার, ৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

গৌরনদী পৌরসভায় উন্নয়ন কাজে ধীরগতিতে চরম জনদুর্ভোগ

২০২৬ মে ০৮ ১৮:৫৩:২৯
গৌরনদী পৌরসভায় উন্নয়ন কাজে ধীরগতিতে চরম জনদুর্ভোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘদিন যাবত নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পরেছে পৌরসভার বাসিন্দারা। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে দ্রুতত কাজ বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভা থেকে ঠিকাদারকে তিনবার নোটিশ প্রদান করা হলেও ড্রেণ ও রাস্তা নির্মাণ শুরু না করায় নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ননিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গৌরনদী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পৌরসভা থেকে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৯ টাকা ব্যয়ে ১২টি রাস্তা ও ছয়টি ড্রেণ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে ২৫.৪৫% কম দরে ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ৭৩৬ টাকায় মেসার্স এমডি দেলোয়ার হোসেন এন্ড মেসার্স শহিদ ব্রাদার্স (জয়েনভেঞ্চার) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে পৌরসভা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন শামিম হোসেন নামের আরেক ঠিকাদার। ২০২৫ সালের ১৩ আগষ্ট কাজ শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সড়ক নির্মান কাজ শুরু করে অতি সম্প্রীতি সমাপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও একটি রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের জন্য রাস্তা খুঁড়ে কাজ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রেন ও রাস্তারর কাজ দ্রুত সমাপ্তের পাশাপাশি অন্যান্য কাজগুলো শুরু করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানা সংলগ্নএলাকার একাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, থানার মোড় থেকে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মানের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাস্তার এক পাশ খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা হয়। রাস্তা খোরার পর থেকে সবেমাত্র এক থেকে দেড়শ’ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি কাজ না করে ফেলে রাখায় জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও খুঁরে রাখা রাস্তায় বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মশার উপদ্রব যেমন বেড়েছে, তেমনি বাসাবাড়ির ময়লা পানির দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পরেছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

উপজেলার টিএন্ডটি মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকার একটি রাস্তার কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনেও সমাপ্ত করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এতে ওই এলাকায় জনভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের জয়েন ভেঞ্চার লাইসেন্সে ঠিকাদার শামিম হোসেন দরপত্রে অংশগ্রহন করে সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে কাজটি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি শামিম হোসেনের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। ঠিকাদার শামিম হোসেন বলেন, শ্রমিক সংকটের একটু ঝামেলা হয়েছিলো। দু’একদিনের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঠিকাদার গাফলতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ন নির্মান কাজ বাস্তব্য়ান না করে ফেলে রাখায় ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে তিনবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো বাস্তবায়ন না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(টিবি/এসপি/মে ০৮, ২০২৬)