প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব
কৃষকের ৭ বিঘা জমির ফসল নষ্টের অভিযোগ
২০২৬ মে ১০ ১৭:৫৫:২৫
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. সেলিম মালিথা নামে এক কৃষকের প্রায় ৭ বিঘা জমির আবাদকৃত ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
শনিবার (৯ মে) বিকেল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, মূলত জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত।
অভিযুক্তরা হলেন— লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম এবং তার ভাই গ্রামপ্রধান মো. ওমর ফারুক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তরিকুল মেম্বার ও তার গোষ্ঠীর লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত চৈত্র মাসে সালাম দালিলিক মালিকানার দাবি করে কৃষক মো. সেলিম মালিথার কাছে ১০ বিঘা জমি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় খাজনা দেন। পরে ওই জমিতে চলতি মৌসুমে চালকুমড়া, করলা ও ঝিঙে চাষ করেন সেলিম মালিথা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুক্রবার সকালে তিনি জমিতে আবাদকৃত ফসলের পরিচর্যা করছিলেন। এ সময় তরিকুল মেম্বার, তার ভাই ওমর ফারুক এবং তাদের সমর্থকেরা সেখানে এসে জমিটি নিজেদের দাবি করেন। একপর্যায়ে ট্রাক্টর চালিয়ে জমির সবজি গাছ গুড়িয়ে নষ্ট করে দেন। বারবার অনুরোধ করেও তিনি তা ঠেকাতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কৃষক বলেন, “আমাদের সামনেই ট্রাক্টর দিয়ে জমির সবজি গাছ নষ্ট করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ যাই থাকুক, একজন কৃষকের এত বড় ক্ষতি করা ঠিক হয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী কৃষক মো. সেলিম মালিথা বলেন, “আমি জমির মালিক নই, খাজনা নিয়ে চাষাবাদ করছি। মালিকানা নিয়ে তাদের নিজেদের বিরোধের কারণে আমার ফসল নষ্ট করা হয়েছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম বলেন, “জমিটি আগে থেকেই আমাদের গোষ্ঠীর মালিকানাধীন। এ জমির প্রায় ৩০ জন অংশীদার রয়েছেন। কৃষক সেলিম যার কাছ থেকে জমি খাজনা নিয়েছেন, তার কোনো বৈধ দলিল নেই। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ঠিকই, তবে আবাদকৃত ফসল নষ্ট করতে আমি নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু অন্য অংশীদাররা আমার কথা শোনেননি।”
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সেখানে ঝামেলার ঘটনা ঘটেছে এবং এক কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
(এসকেকে/এসপি/মে ১০, ২০২৬)
