প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
অবৈধভাবে ইতালী যাত্রা
৪৮ লাখ টাকা দিয়েও লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে প্রাণ গেলো যুবকের
২০২৬ মে ১৩ ১৮:৫১:৪৫
মাদারীপুর প্রতিনিধি : অবৈধভাবে ইতালী যাবার পথে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী দলালদের খপ্পরে পড়ে মাফিয়াদের নির্যাতনে মাদারীপুর রাজৈরের এক যুবক মারা গেছে বলে পারিবারিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে মারা যাবার খবর পেলে নিহতের পরিবারে নেমে আসে শোক। জমি বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দেয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। এদিকে নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনাসহ দালাল চক্রের শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।
নিহত তছির ফকির (৪২) মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের তছির ফকির। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আসায় গত ৮ মাস আগে পাশ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়েন। এরপর ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৩ মেয়ে ও স্ত্রী রেখে বাড়ি ছাড়েন তিনি। ২৫ লাখ টাকা নিয়ে তছিরকে পাঠানো হয় লিবিয়ায়। সেখানে মাফিয়াদের বন্দীশালায় নির্যাতন করে হাতিয়ে নেয় হয় আরো ২০ লাখ টাকা। পরে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে লিবিয়ার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তছিরকে। এরপর চিকিৎসার কথা বলে আরো ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় দালালচক্র। জমি বিক্রি করে ও সুদে টাকা এনে তারা মোট ৪৮ লাখ টাকা নেয়। এত টাকা দিয়েও প্রাণে বাচতে পারলো না তছির।
পরবর্তীতে তছিরের মৃত্যু হলে লাশ গুম করার জন্য গেম ঘরে নিয়ে যায় মানবপাচারকারীরা। তবে মঙ্গলবার লিবিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতরা মৃত্যুর খবরটি নিহতের পরিবারকে জানায়। এতে করে ভেঙ্গে পড়েন পুরো পরিবার। একদিকে মৃত্যুর খবর অন্যদিকে সুদের টাকা। তাই পুরো পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবার পালিয়ে যায়। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিহতের ভাই শাহীন ফকির বলেন, দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়ে আমার ভাই ইতালী যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ঐ দেশের হাসপাতালের আইসিইউতেও রাখা হয়েছিলো। আমরা আমার ভাইকে দেশে ফেরত আনার কথাও বলি। কিন্তু তারা তা করেনি। এরপর শেষ তিনদিন ভাইয়ের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। পরে তিনদিন পর আমাদের গ্রামের পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারি আমার ভাই মারা গেছে। এখন আমার ভাই এর লাশ দেশে আনার দাবী জানাই। পাশাপাশি দালালের বিচার চাই। আমার ভাই এর মারা যাবার খবর জানতে পেরে দালাল তার পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে আমরা খুজে পাচ্ছি না।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহফুজুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবার থেকে আমাদের কিছু জানাইনি। তবে তাদের লাশ আনার ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে, তা দেয়া হবে। তাছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার কথা জানতে পেরে রাজৈর থানার ওসি দালালের ব্যাপারে খোজ খবর নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
(এএসএ/এসপি/মে ১৩, ২০২৬)
