ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলা শুরু 

২০২৬ মে ১৩ ১৯:৪৩:৪৮
গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলা শুরু 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আজ বুধবার(১৩ মে) থেকে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ১৪তম কবি সুকান্ত মেলা। মেলাটি কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কবির ৭৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে এ মেলার আয়োজন করেছেন।

সাংস্কৃতিমন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে মেলার উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান, কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের প্রভাষক প্রিন্স আহম্মেদ।

প্রধান অতিথি এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, কবি সুকান্ত শোষিত মানুষদের পক্ষে ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছেন। তার প্রতিটি কবিতায় ছিলো প্রতিবাদের সুর।বর্তমান সরকার তার চেতণাকে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে সন্ধ্যায় মেলার উদ্বোধন করা হলেও দুপুর থেকেই মেলার অনুষ্ঠনিকতা শুরু হয়। শুরুতেই
দেশ বরেণ্য কবিদের আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যায় শুরু হয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এটি চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত।

এছাড়াও কবির পৈতৃক ভিটায় বসেছে গ্রামীণ মেলা। এ মেলার আয়োজনকে ঘিরে কোটালীপাড়া ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আগামী শুক্রবার (১৫ মে) সুকান্ত মেলা সমাপ্ত হবে। শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

উল্লেখ্য, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান। জন্মের আগেই কবির পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামের পৈতৃক ভিটা পেলে কোলকাতায় চলে যান। কবির পৈতৃক ভিটা দখল হয়ে যায়। সরকার কবির পৈতৃক ভিটা থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কবির পৈতৃক ভিটায় লাইব্রেরী কাম অডিটোরিয়াম নির্মাণ করে দেয়।

সুকান্তের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘অভিযান’ ও ‘হরতাল’।

(টিবি/এসপি/মে ১৩, ২০২৬)