প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত
বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের উত্থান মমতার বিদায় নিশ্চিত করেছে
২০২৬ মে ১৪ ১৮:১৭:৪৮
শিতাংশু গুহ
তামিলনাড়ুতে জোসেফ বিজয় থালাপতি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। তামিলনাড়ু’র জনসংখ্যা ৮৮% হিন্দু, খৃষ্টান ৬-৭%, মুসলমান ৫-৬%। হিন্দুরা ভোট দিয়ে একজন খ্রিষ্টানকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে, এটিই ভারত। তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন হেরেছেন, জোসেফ বিজয় থালাপতি জিতেছেন। স্ট্যালিন পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেছেন, হিন্দুধর্মকে উৎখাত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় থালাপতি বলেছেন, মুসলিমদের অত্যাচার করলে হিন্দুদের ছাড় দেয়া হবেনা। আচ্ছা বাংলাদেশে কি মমতা ব্যানার্জি বা জোসেফ বিজয় থালাপতি, বা উদ্যনিধির মত একজন নেতা আছে বা কখনো ছিলো যারা হিন্দুদের পক্ষে কথা বলেছে? কোন সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী বা বিশিষ্ঠ ব্যক্তি? পাকিস্তানে আছে? কোন মুসলিম দেশে আছে? ইউরোপ আমেরিকায় আছে, পশ্চিমা বিশ্বে আছে, এবং ভারতে আছে।
নির্বাচনোত্তর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমের ওপর অত্যাচারের একটি ঘটনাও ঘটেনি, অথচ বাংলাদেশের ইনকিলাব, দৈনিক দেশ, দিগন্ত টিভি রং-বেরঙ্গের মিথ্যা নিউজ, ভিডিও প্রকাশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বড় বড় মিডিয়া অবশ্য চুপ, কোন কোন সংস্থা ‘ফ্যাক্টচেক’ করে ঐসব নিউজ, ভিডিও মিথ্যা বলে জানিয়ে দিচ্ছে। জামাত=এনসিপি-মোল্লারা জলঘোলা করার চেষ্টায় আছে। তামিলনাড়ু থেকে এঁরা কি কিছু শিখবে? না, শিখবে না, এরা ভাল কিছু শেখেনা। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে মোল্লারা কোন ভাল কাজ করেছে এমন দৃষ্টান্ত নেই? জামাত-এনসিপি-মৌলবাদীরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তৌহিদী জনতা নামে উগ্র সাম্প্রয়দায়িক গোষ্ঠী দেশটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতাসীন হলে কিছুটা ঝিলিক দিলেও এখন পুরানো ‘স্বাধীনতা বিরোধী’ বিএনপি পুনরায় ফিরে আসছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে এবার বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে ব্যাপক শোরগোল হয়েছে। ভারতের একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এত মাথাব্যথার কি কারণ আছে? আছে, কারণ সেখানে বিজেপি নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে। এতে বাংলাদেশের একশ্রেণীর মৌলবাদী মুসলমানের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এঁরা গেল গেল রব তুলছেন। বাংলাদেশিরা অসংখ্য ভুয়া নিউজ, ভিডিও ছেড়ে প্রচার চালাচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাস্তবে সেখানে তেমন কিছুই ঘটেনি। পশ্চিমবঙ্গের কোন মুসলিম নেতা, ফিরহাদ হেকিম, নওশাদ সিদ্দিকী, হুমায়ুন কবির, ফুরফুরা শরীফ, আরামবাগ টিভি (সাইফুল) বলছে না যে মুসলিমরা অত্যাচারিত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মৌলবাদীরা এ নিয়ে লাফাচ্ছে। বাংলাদেশে কেউ কেউ হিন্দুদের ওপর আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে বা এমনকি ভারত দখলের স্বপ্ন দেখছে।
ঘটনা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ায় বাংলাদেশের মৌলবাদীরা ভয় পেয়ে গেছে। ভয় পাওয়ারই কথা? নির্বাচনী প্রচারকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা এখনো বৈধ প্রধানমন্ত্রী, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঢাকা যাবেন, তাকে স্যালুট দিয়ে গ্রহণ করতে হবে’। মুখ্যমন্ত্রী হবার পর তার বিদেশ নিয়ে কথা বলার সুযোগ কম? তিনি অবৈধ বাংলাদেশীদের বিতাড়নের কথা বলেছেন। বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় থাকলে আমরা বের করে দেবোনা? আমেরিকা বের করছে না? বাংলাদেশ সরকার বলেছে, পুশব্যাক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই? ঠিকই তো, বাংলাদেশীরা ঘরে ফিরে আসলে ক্ষতি কি? কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে কথা উঠছে? ভারত তার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতেই পারে, তাতে আমাদের কি? বাংলাদেশও এর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতেই পারে? এতে সীমান্তে মৃত্যু কমবে, চোরাচালান হ্রাস পাবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনারা সীমান্তে গিয়ে চোরাচালান করবেন, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করবেন তাতে ক্ষতি নাই, ভারত গুলি করে মারলে যত সমস্যা। রুহুল কবির রিজভী বিএনপি’র বড় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিনি সত্য কথা বলেছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি ইউনুস আমলে বউয়ের পুরানো ভারতীয় শাড়ী পুড়িয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিতে চেয়েছেন জুনেদ বিন গুলজার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায়না। এনায়েতুল্ল্যাহ আব্বাসী বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের হালকা সাইজ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চাপে রাখতে হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার স্বপন চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুরোধ করেছেন যে, বাংলাদেশের হিন্দুরা যেসব সুবিধা পায়, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা যেন তা পায়। ইনকিলাব মঞ্চ সরকারের কাছে ৭-দফা দাবি পেশ করেছে। খেলাফত মজলিস শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
মূলত: ইউনুস আমলে ভারত একশ্রেণীর বাংলাদেশির আসল চেহারা দেখতে পেয়েছে। তাঁরা জেনে গেছে মৌলবাদী, জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশকে ‘মিনি-পাকিস্তান’ বানাতে চায়, অনেকটা বানিয়ে ফেলেছে। একাত্তরের রাজাকারের উত্তরসূরিরা রাজাকারই আছে? যতই দিন যাচ্ছে, মানুষ অতিষ্ঠ হচ্ছে, বলছে, ‘শেখ হাসিনা’ই ভাল ছিলো’। কর্নেল অলি বলছেন চমৎকার কথা, তা হচ্ছে, হাসিনার পরামর্শে মমতাকে সরিয়ে শুভেন্দুকে বসানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অঙ্গরাজ্য সরকারের মন্তব্যে বাংলাদেশ বিচলিত নয়। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধুত্ব হয়না। আচ্ছা মমতা ব্যানার্জি’র বিদায়ে বাংলাদেশের একশ্রেণীর মুসলমানের এত মন খারাপ কেন? লক্ষ্য করলে দেখবেন এরা সব পুরানো শুকুন, জামাত-এনসিপি-রাজাকার ও তৌহিদী জনতা। আওয়ামী লীগ এমপি আনোয়ারুল আজীমকে জঙ্গীরা বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় নিয়ে হত্যা করেছিল, মনে আছে?
এটিই কারণ, মমতা পশ্চিমবাংলাকে দুই বাংলার জঙ্গীদের অভয়ারণ্য তৈরী করেছিলো। মমতা ব্যানার্জি মুসলমানদের পক্ষে কথা বলতো, হিন্দুদের বিপক্ষে গিয়ে মুসলমানের পক্ষে দাঁড়াতো, হিন্দুদের গালিগালাজ করতেন। আচ্ছা বাংলাদেশে মমতার সমর্থকরা মুসলমানের বিপক্ষে গিয়ে হিন্দুদের পক্ষে দাঁড়ান না কেন? বাংলাদেশে কেন মমতার মত নেত্রী সৃষ্টি হয়না? আপনি পুরোপুরি কট্টর ইসলামপন্থী হবেন, নিজের দেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেবেন, আর ভারত আপনার সুবিধার্থে চিরকাল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ থাকবে, এমনটা আশা করা বোকামি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি আসার কারণ আপনি, বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থীদের উত্থান। ভারতে বিজেপি’র উত্থানের কারণ পাকিস্তানে ইসলামপন্থীদের রমরমা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যত কট্টর ইসলামপন্থী হবে, ভারতে বিজেপি’র জয়যাত্রা বাড়তে থাকবে।
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
