ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘রোনালদোর ক্ষুধা এখনো ট্রফি না পাওয়া তরুণের মতো’

২০২৬ মে ১৬ ১২:৫৭:০৭
‘রোনালদোর ক্ষুধা এখনো ট্রফি না পাওয়া তরুণের মতো’

স্পোর্টস ডেস্ক : উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাসেরও কম সময়। ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড বই ওলটপালট করে দেওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনে এখন ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে মাঠে নামার এক অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা।

তবে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দলে জায়গা পেলেও, রোনালদো কোনো অতীতের গৌরব বা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে দলে থাকছেন না; বরং বর্তমান ফর্মের বিচারেই তিনি পর্তুগাল দলে খেলবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।

বৃহস্পতিবার লিসবনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা কোনো আইকনিক চরিত্রকে নয়, বরং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে লড়াই করা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সামলাচ্ছি।


পর্তুগালের ফুটবল মহলে আলোচনা এখন এটা নিয়ে নয় যে ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোলের মালিক রোনালদো দলে থাকবেন কি না। বরং আলোচনা হচ্ছে, বিশ্বকাপের মতো কঠিন মঞ্চে তার ভূমিকা ঠিক কী হবে।

কোচ মার্তিনেজের কাছে অবশ্য হিসাবটা একেবারেই সহজ। রোনালদো কেমন খেলবেন তা নির্ধারিত হবে তার বর্তমান পারফরম্যান্স এবং অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে।
মার্তিনেস বলেন, ‘বয়স কেবলই একটা সংখ্যা। জাতীয় দলে আমরা প্রতিদিনের পারফরম্যান্স সরাসরি পরিমাপ করতে পারি এবং সেই অনুযায়ী পরের দিনের সিদ্ধান্ত নিই। আমরা বর্তমানের চেয়ে বেশি দূরের কথা ভাবি না।’

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যেখানে অতিরিক্ত সময়, পেনাল্টি বা কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে ম্যাচের ভাগ্য যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, সেখানে রোনালদোর ভূমিকা কী হবে; এমন প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেস আধুনিক ফুটবলের এক নতুন ধারণার কথা জানান।

তিনি বলেন, “এখন ফুটবলে পাঁচজন খেলোয়াড় বদলানোর সুযোগ আছে। বিষয়টি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমাদের একটা ‘স্টার্টিং টিম’ (যারা ম্যাচ শুরু করবে) এবং একটা ‘ফিনিশিং টিম’ (যারা ম্যাচ শেষ করবে) থাকে। এর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। দলে একেক জনের ভূমিকা একেক রকম এবং ক্রিস্টিয়ানো সবসময় তার ভূমিকা মেনে নিয়েছে।”

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো সান্তোস সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে রোনালদো কি দলের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকা কমিয়ে আনা মেনে নেবেন?

মার্তিনেস অবশ্য আগের টুর্নামেন্টের সঙ্গে এর কোনো তুলনা করতে রাজি হননি। তার মতে, দলের ফর্ম, স্টাইল এবং পরিস্থিতি সবসময় পরিবর্তনশীল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই সমান সুযোগ পায়। যারা ভালো খেলবে এবং দলের জয়ে ভূমিকা রাখবে, তাদের খেলার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকবে। হিসাবটা খুবই সহজ।’

রোনালদো যে দলে কেবল নামসর্বস্ব কোনো উপস্থিতির জন্য নেই, মার্তিনেস তার প্রমাণও দিয়েছেন। মার্তিনেসের অধীনে ৩০ ম্যাচে ২৫টি গোল করেছেন রোনালদো। পর্তুগালের আগের যেকোনো কোচের চেয়ে মার্তিনেসের অধীনেই রোনালদোর গোল করার গড় সবচেয়ে বেশি। শুধু গোল সংখ্যাই নয়, মাঠের অন্যান্য দিক থেকেও রোনালদোর অবদান অপরিসীম বলে জানান কোচ।

রোনালদোর প্রশংসা করে মার্তিনেস বলেন, ‘ফাঁকা জায়গা তৈরি করা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়া এবং সঠিক পজিশনে থাকার ক্ষেত্রে সে অসাধারণ সুশৃঙ্খল। সে আমাদের আক্রমণভাগের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করে, যা শুধু তার নিজের জন্যই গোলের সুযোগ তৈরি করে না, দলের বাকিদের জন্যও জায়গা বানিয়ে দেয়।’

মার্তিনেজ মনে করেন, রোনালদোর আলোচনার শুরুতেই তার বয়স নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। বরং তার ফিটনেস ডেটা, ট্রেনিং, মনোভাব এবং ট্যাকটিক্যাল ফিটনেস নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তার মতে, রোনালদোর এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে কেবল শারীরিক সক্ষমতাই নয়, বরং তার চমৎকার ফুটবলীয় বুদ্ধি এবং প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা কাজ করেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর রোনালদোর কোন বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, জানতে চাইলে পর্তুগাল কোচ বলেন, ‘তার তারকাখ্যাতি নয়, বরং তার ভেতরে থাকা ক্ষুধার তীব্রতা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। যে খেলোয়াড়টি ফুটবলের সবকিছু জিতেছে, তার জেতার ক্ষুধা এখনো এমন একজন তরুণের মতো, যে ক্যারিয়ারে এখনো কোনো ট্রফিই ছোঁয়নি।’

এই ক্ষুধাই রোনালদোকে ড্রেসিংরুমে একজন অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে বলে মনে করেন মার্তিনেজ।

রোনালদোকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় কখনোই থামবে না তা ভালো করেই জানেন মার্তিনেজ। তার ভাষায়, ‘পর্তুগালের প্রতিটা ট্যাক্সি ড্রাইভারেরও রোনালদোকে নিয়ে নিজস্ব মতামত আছে, এমনকি তারা ইদানীং তার খেলা না দেখলেও মন্তব্য করবে।’

তবে মার্তিনেজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাইরের কথায় কান না দিয়ে মাঠের প্রমাণ দেখেই তিনি দল নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা সবসময় মেধার জোরেই মাঠে জায়গা পায়। যখন পরিস্থিতি অন্য কিছু ইঙ্গিত করবে, তখন স্বাভাবিক নিয়মেই দল নির্বাচন হবে।’

(ওএস/এএস/মে ১৬,২০২৬)