ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’

২০২৬ মে ১৬ ১৩:৩৪:৩৭
‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো যাবে না।

রাজনৈতিকভাবে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট হয়।

শনিবার (১৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে আসনসংখ্যা না বাড়ানোর আহ্বান জানাই। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অতীতে স্বাস্থ্য খাতের বিপুল অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতে এবার বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে এবং এ জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক হয়ে গেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমরা একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।

(ওএস/এএস/মে ১৬,২০২৬)