ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরার হিমসাগর যাচ্ছে ইউরোপে 

২০২৬ মে ১৬ ১৯:২২:৩১
সাতক্ষীরার হিমসাগর যাচ্ছে ইউরোপে 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দ্বাদশ বারের মতো দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপে যাচ্ছে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম। বিদেশে আম পাঠাতে পেরে খুশি আম চাষীরা। কঠোর মান যাচাইয়ের পর সাধারণত বিদেশে পাঠান রপ্তানীকারকরা। স্বাদ ও মান ভাল হওয়ায় দিনে দিনে রপ্তানী বাড়ছে সাতক্ষীরার আম।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় এবার ৪ হাজার১৪০ হেক্টর জমিতে চাষকৃত আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মে.টন। এর মধ্যে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে ১০০ মে.টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম।

কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, মাটির গুণাগুণ ও ভৌগলিক কারণে অন্যান্য স্থানের তুলনায় আগেই বাজারজাত করা যায় সাতক্ষীরার আম। আমের স্বাদও ভাল। এসব কারণে ২০১৪ সাল থেকে আম রপ্তানী হচ্ছে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানী, লন্ডন, ইটালিসহ বিভিন্ন দেশে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ও এফএও এর যৌথ কারিগরী সহায়তায় আজই লন্ডন ও ইটালিতে রপ্তানীর উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা ছাড়বে দেড় হাজার কেজি হিমসাগর জাতের আম।

দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সাতক্ষীরায় দিনে দিনে বাড়ছে আম চাষ । গুনগত মান বজায় রাখতে সদা তৎপর ছিলেন আম চাষিরা। বিদেশে আম পাঠাতে পেরে খুশী তারা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাঠালতলা এলাকার চাষি হাফিজুল ইসলাম খোকা জানান, ‘‘বিদেশে যেসব আম যায়, প্রথম থেকেই আমরা নিবিড় পরিচর্যার বিষয়ে এতটুকু ঘাটতি রাখিনা। প্রথম থেকে পরিকল্পনামাফিক পরিচর্যা করা হয়। নিয়মিত সেচ দেওয়া, ডাল ছাঁটা, সুষম সারের ব্যবহার, কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ, হরমোন, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারসহ রপ্তানীকারকদের মনিটরিংয়ে সবকিছু করা হয়।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘এবছর আমের উৎপাদন ভালো। তবে আম সাইজে একটু ছোট হয়েছে।’’

বাছাইকৃত আমের দাম বাজারের তুলনায় প্রায় দেড়গুন বলে জানান তিনি। বিদেশে পাঠানো হিমসাগর আম মণ প্রতি ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে আম পাঠাতে হলে আমের গুনগত মানের প্রতি রাখতে হয় সজাগ দৃষ্টি। সাতক্ষীরার আম বিদেশে পাঠাতে মান যাচাইয়ে ত্রুটি রাখেননা রপ্তানীকারকরা।

এ বিষয়ে রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার জে এন ইন্টারন্যাশনালের কো-অর্ডিনেটর মো: রাসেল জানান, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ইউরোপে সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম রপ্তানী করে আসছি। আমরা সাধারণত বাগান মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হই। এরপর ফ্রেশ আম হার্ভেস্টিংয়ের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় প্যাকেজ সেন্টারে আবারও যাচাই-বাছাইয়ের পর সনদ নেওয়া হয়। এরপর আম বিমানে করে বিদেশে যায়।”

তিনি আরও জানান, ‘‘আজকে দেড় মে.টন আম লন্ডন ও ইতালির উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা ছাড়ছে। আমরা হয়ত এবার ১০০মে.টন আম বিদেশে পাঠাব।’’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ‘‘জেলায় এবার প্রায় ৬শ’ কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হবে। এরমধ্যে ১০০ মে.টন বিদেশে যাচ্ছে। আমের গুনগত মান নিশ্চিত করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কেমিক্যাল মিশ্রিত করতে না পারে, সেদিকে কৃষিবিভাগ কঠোর মনিটরিং করে চলেছে।’’

(আরকে/এসপি/মে ১৬, ২০২৬)