প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে যুবলীগের মিছিল
২০২৬ মে ১৮ ১৪:৩৭:৫৭
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল করেছে ফরিদপুর জেলা ও শহর যুবলীগ।
(রবিবার) ১৭ মে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ফরিদপুর শহরস্থ মহাসড়কে এ ঝটিকা মিছিলটি হয়েছে বলে দৈনিক বাংলা ৭১কে নিশ্চিত করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব অঙ্গ-সংগঠন যুবলীগের এ মিছিলে অংশগ্রহণকারী একাধিক নেতা। ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক
আসিবুর রহমান ফারহানের নেতৃত্বে এ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা যুবলীগের সদস্য মাহফুজ আহমেদ হিমেল, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদ (রুকসু)-এর সাবেক ভিপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. কাউসার আকন্দ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও যুবলীগ নেতা দেবাশীষ নয়ন সহ আরও অনেকে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে মিছিলটির খবর পেয়ে ও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিছিলের ভিডিও ও ছবি প্রকাশিত হলে, মিছিলে অংশগ্রহণকারী একাধিক নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে ওই নেতারা কেউ ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে তাদের কয়েকজনের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে রাখলে রবিবার দিবাগত প্রায় মধ্যরাতের দিকে একাধিক নেতা ফোন ব্যাক করে জানান, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও ১৭ই মে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে; ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান (নিক্সন) চৌধুরীর নির্দেশে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে ফরিদপুর জেলা ও শহর যুবলীগ। তবে, মিছিলটি কোথায় হয়েছে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও 'ফরিদপুর শহরস্থ মহাসড়কে' হয়েছে বলে জানান তারা। গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা মিছিলটি হয়তো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মুন্সীবাজার বাইপাস সড়কের মোড়ের আগ পর্যন্ত ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের কোনো এক স্থানে সংগঠিত হতে পারে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, শহর বা শহরের আশে পাশে কোনো কোনো জটিকা মিছিল হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। প্রাথমিকভাবে এটির স্থান বোঝা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
এছাড়া, গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের মাঝকান্দির কাছাকাছি কোনো এক স্থানে একটি মিছিলের খবর পাওয়া গেলেও দুপুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সেটির ব্যাপারে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতিতে ১৭ মে একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির স্বাধীনতার ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়ার পর, বঙ্গবন্ধু'র দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় তাঁরা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন।
এর কিছুদিন আগে, ১৯৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের অনুপস্থিতিতেই বঙ্গবন্ধু বড় মেয়ে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে ১৭ মে শেখ হাসিনা ভারত থেকে একটি বিমানে চড়ে দিল্লির মাধ্যমে কলকাতা হয়ে তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই দিন ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ বঙ্গবন্ধু'র বড়কন্যা শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক সংবর্ধনা জানায়।
শেখ হাসিনার ওই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও প্রগতির ধারা ফিরে আসে। এই দিনটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সেই থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতি বছর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে মে মাসের ১৭ তারিখ দিনটিকে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন।
(আরআর/এএস/মে ১৮,২০২৬)
