প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
কাপাসিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ
২০২৬ মে ২১ ১৫:২২:০০
সঞ্জীব কুমার দাস, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার ও জুলাই যোদ্ধা সোহেল তালুকদারের উপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনসাধারণ।
উপজেলার টোক নগর গ্রামের কবির মেম্বারের বাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে স্থানীয় শতাধিক জনসাধারণ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার জানান, বর্তমান সময়সহ বিগত তিন মেয়াদে তিনি টোক ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাজরাতুল ইসলাম রাফি তার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করতে ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। সম্প্রতি তিনি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর থেকে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে তাদেরকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। এমনকি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে নানাবিধ আর্থিক সহায়তা দিতে গেলেও তারা তাকে বাধা দেয়।
ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে রাস্তার পাশে টানানো পোস্টার, বিলবোর্ড ও তোরণগুলোও তারা নষ্ট করে দিচ্ছে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৭ মে রবিবার রাত ১০টার দিকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে টোক বাজারে একটি দোকানে গেলে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সাজরাতুল ইসলাম রাফির নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়।
এ সময় আশপাশে থাকা শ্রীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি ও জুলাই যোদ্ধা সোহেল তালুকদার, রাজীব, এরশাদ, ফুয়াদ আহমেদ তনয়, মঞ্জু, সাদেক, মাহাবুবসহ অনেকেই তাদেরকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তারাও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয় জনসাধারণ মারাত্মক আহত অবস্থায় সোহেল তালুকদার ও কবির মেম্বারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল তালুকদারকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। আর কবির মেম্বারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে কবির মেম্বার বাদী হয়ে ১৮ মে সোমবার কাপাসিয়া থানায় আব্দুর রশিদ, তার ছেলে রাফিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ৭-৮ জনের নামে হামলার ও সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন। পরে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য টোক তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মোঃ মিনহাজ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, টোক ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে টোক বাজারে রাত ১২ টার সময় মিটিং করছিল। টোক বাজারের একজন ইজারাদার হিসেবে আমার কাছে এ খবর আসলে আমরা কয়েকজন তাদেরকে বুঝিয়ে বাজার থেকে বের করে দিয়েছি। ওই সময় কোনো ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগও ভিত্তিহীন। টোক বাজারের সিসিটিভির ফুটেজগুলো চেক দিলেই এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে টোক তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান, গত ১৭ তারিখের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(এসকেডি/এএস/মে ২১, ২০২৬)
