ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ

প্রতারক তারেক র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

২০২৬ মে ২৫ ১৯:২০:৩৩
প্রতারক তারেক র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদ্স্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক মো. তারেক সরকারসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. পলাশ কবির (৪২), যিনি ওই প্রতারকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রবিবার (২৪ মে) প্রতারক মো. তারেক সরকারকে নরসিংদী সদর এলাকার সঙ্গীতা মোড় এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরের দিকে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০ এর মিডিয়া বিভাগের সহকারি পরিচালক ও সিনি. সহকারি পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার।

র‌্যাব জানায়, অভিযুক্ত মো. তারেক সরকার (৪০) নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা। বিগত প্রায় তিন বছর যাবত সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। তারেক হোয়াটসঅ্যাপে একাউন্ট খুলতেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। এতে করে সাধারণ মানুষজন প্রতারিত হয়ে আসছিল এবং একই সাথে বিভিন্ন মহলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল।

মূলত মো. তারেক সরকার একজন চাকরিচ্যুত সেনাবাহিনীর সদস্য। তিনি ২০০৬ সালে নিয়ম শৃঙ্খলা বহির্ভুত কাজের অভিযোগে সেনাবাহিনী হতে চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর চাকরি করেন। এরই সুবাদে তার কারাগারের বিভিন্ন অপরাধীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক ও প্রতারণামূলক কাজে প্ররোচিত হতে থাকেন। এরপর বিভাগীয় মামলার কারণে তিনি সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিমণ্ডলে চাকরি করার সুবাদে সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা এবং বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা গড়ে উঠে। ফলে তিনি তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নানাবিধ প্রতারণামূলক কর্মকান্ড শুরু করেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস হতে ভুয়া মোবাইল সিম কার্ড এবং অনলাইনে বিভিন্ন উৎস হতে তথাকথিত ভিআইপি সিমকার্ড সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত সেসব সিম ব্যবহার করে তিনি সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট খুলেন। এরপর তিনি উক্ত একাউন্টগুলো হতে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ভুয়া পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে তুলেন ও বিভিন্ন লোকের চাকরিতে নিয়োগের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশ করতে থাকেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেন করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে গত ৬ বছর ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

র‌্যাব আরো জানায়, বিভিন্ন মহলে প্রতারণা করায় র‌্যাবের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ আসা শুরু করে। উক্ত অভিযোগ সমূহের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে র‌্যাবের একটি চৌকস দল এ বিষয়গুলোর অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মো. তারেক সরকার এর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং বরিবার (২৪ মে) ২০২৬ তারিখ মো. তারেক সরকারকে নরসিংদী সদর এর সঙ্গীতা মোড় এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাধাই করা ছবি রয়েছে যেখানে তার সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ছবি ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা। ওই ছবিটি ব্যবহার তিনি প্রতারণার কাজে প্রভাব বিস্তার খাটাতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উক্ত সকল প্রতারণামুলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার সহযোগী হিসেবে জনৈক মো. পলাশ কবির (৪২) নামে এক ব্যাক্তির যোগসূত্র পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব ও বিজিবির একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা জেলার সায়েদাবাদ এলাকা হতে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ অভিযান পরিচালনা করে মো. পলাশ কবির (৪২)’কে আলামত সহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

(আরআর/এসপি/মে ২৫, ২০২৬)