ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আ.লীগ সমর্থকের ঘের দখল, মারপিট

২০২৬ জুন ০২ ১৮:৫৫:১২
সাতক্ষীরায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আ.লীগ সমর্থকের ঘের দখল, মারপিট

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের মাছের ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন একই গ্রামের আমজাদ আলী।

অভিযোগ, জবরদখলের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আবতাফুজ্জামান, তার ভাই কামরুজ্জামান নির্যাতিত আমজাদ আলী ও তার ভাইসহ তাদের পক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে চলেছেন।

বকচরা গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে আমজাদ আলী বলেন, শহরের কাটিয়ার ফারজানা খানম, নজরুল ইসলাম ও বকচরার আব্দুর রউফের কাছ থেকে তার স্ত্রী মরিয়ম বিবি ও নিজে দক্ষিণ বকচরা বিলে এক একর নয় শতক জমি কিনে আরো প্রায় চার বিঘা জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মৎস্য ঘের করে আসছেন তিনি। অপরদিকে ইছা খাঁ’র কাছ থেকে ১৯৮০ সালের ২৬ এপ্রিল ৫টি দাগে ২৫ শতক জমি কেনেন কওছার আলী। কওছার আলীর কেনা দাগের মধ্যে তার ও তার স্ত্রীর (আমজাদ ও মরিয়ম) ৭৬ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে কওছার আলীর ছেলে সাইফুজ্জামান ও তার ভাইদের দেওয়ানী আদালতে ও ল্যাণ্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রয়েছে। বাবা কওছারের কেনা পাঁচটি দাগে ২৫ শতক জমি থাকলেও ২০০৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর প্রয়াত কওছারের ছেলে আবতাফুজ্জামান, কামরুজ্জামান , সাইফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান ওই জমি তার (আমজাদ) ঘেরের মধ্য থেকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। প্রতিবাদের একপর্যায়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে বাড়ির সামনে মারপিট করে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইয়েরা।

এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। তদন্তে তিন ভাইকে বাদ দিয়ে কামরুজ্জামানের নামে নন জিআর মামলা হয়। তাকে মারপিট করার বিষয়টি ভিন্নথাতে প্রবাহিত করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি কামরুজ্জামান বাদি হয়ে তাকেসহ দুই ভাইয়ের নামে আমলী আদালতে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন কামরুজ্জামান। মামলাটি বর্তমানে সদর থানায় তদন্তাধীন।
আমজাদ আলী আরো জানান, পায়রাডাঙা গ্রামের শাহীন হত্যা মামলার আসামী আবতাফুজ্জামান. কামরুজ্জামানসহ তারা চার ভাই এবং বকচরা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান, আহম্মদ এর ছেলে মোক্তার হোসেন, খলিলের ছেলে ইব্রাহীমসহ কয়েকজন গত ৫ মে সকালে তার এ একর ৯ শতক মাছের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। লুটপাট করা হয় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ওই দিন তিনি থানায় অভিযোগ করলে পরদিন থানায় দ’ুপক্ষকে নিয়ে পুলিশ বসাবসি করে। ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবতাফুজ্জামানদের বলা হয়। এর পরপরই তাকে মৎস্যজীবী দলের আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লার দেয়া মিথ্যা মামলায় তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়। ২১ মে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

২৯ মে আবতাফুজ্জামান ও তার লোকজন তার ঘেরে তারই দুটি শ্যালো মেশিন থেকে পানি তুলতে থাকলে তিনি আপত্তি করলে তাকে জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিলে গত ৩১ মে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসাবসি করার কথা থাকলেও কথা রাখেনি আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইয়েরা। একপর্যায়ে উপপরিদর্শক সুমন সরকার মঙ্গলবার বিকেলে বসাবসির জন্য আবারো সময় নির্ধারণ করেন। বিপদ বুঝে আবতাফুজ্জামান ও তার লোকজন সোমবার রাতে তার(আমজাদ) ঘেরে গ্যাস চ্যাবলেট বা বিষ জাতীয় কিছু দিয়ে মাছ মেরে ফেলে তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তবে মাছ মেরে ফেলার ঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরে আবতাফুজ্জামান। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবতাফুজ্জামান, আসাদুজ্জামানসহ তার ভাইয়েরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তার ঘের দখল করার চেষ্টা করছে। তার পক্ষে আইনি সহায়তা করায় অ্যাড. জিয়াউর রহমান জিয়া, তাদের দুই আপনজন ও তার দুই ভাইসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে এসকেবেটর মেশিন পোড়ানো, ভাংচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে আবতাফুজ্জামান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবতাফুজ্জামান জানান, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িতে ছিলেন না। এ সময় আমজাদ আলী তাদের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। তাই থানায় বসাবসির মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি ওই জমি দখলে নিয়েছেন। সোমবার রাতে আমজাদসহ কয়েকজন তার ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে আমজাদ আলীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার থানায় বসাবসি থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে থানায় যেতে না পারায় মঙ্গলবার আবারো দিন ঠিক করা হয়েছে।

আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুবাদে অনেক টাকার মালিক। সম্প্রতি আমজাদ আলীর ঘের আবতাফুজ্জামান দখল করে নিয়েছে সেটা তিনি জানেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় বসাবসি আছে। যাতে আমজাদ আলী তার ঘের ফিরে পায় সেজন্য তিনি তার দলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক সুমন রায় জানান, আমজাদ আলীর অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যেয়ে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইদের ওই ঘেরে না যাওয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু আবতাফুজ্জামানরা তা মনেছেন না। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে আবারো থানায় বসাবসি আছে।

(আরকে/এসপি/ জুন ০২, ২০২৬)