প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে
ফরিদপুরে এলজিইডি'র পাকা রাস্তা দখল করে ঘর ও প্রাচীর নির্মাণ
২০২৬ জুন ০২ ১৮:৫৯:১৬
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়, এলজিইডি নির্মিত সরকারি পাকা রাস্তার ওপর ঘর ও প্রাচীর নির্মাণ করেছেন ইয়াসিন জমাদ্দার নামে এক ব্যক্তি। ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উজান মল্লিকপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে উজান মল্লিকপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে ইয়াছিন জমাদ্দারের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসি রাস্তার ওপর থেকে বাড়ির প্রাচীর সরানোর জন্য জনৈক দখলদার ইয়াছিনকে অনুরোধ করতেছিলেন। কিন্তু ইয়াছিন কিছুতেই তা সরাতে ইচ্ছুক নন। এ নিয়ে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছিল বারবার।
রাস্তাটি নির্মাণের সময় বাধা না দিলেও ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলজিইডি করা পাকা রাস্তাটি নির্মাণের কিছুদিন পরেই রাস্তাটির দুই তৃতীয়াংশ দখলে নিয়ে নিজ বাড়ির টিনের প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করেন ইয়াছিন জমাদ্দার। ইয়াছিনের দাবি রাস্তাটির যে অংশটুকু তার বাড়ির যায়গায় পড়েছে তিনি সেটুকু দখল নিয়ে নিয়েছেন। রাস্তার ভেতরে তার জায়গা রয়েছে, তাই তিনি রাস্তাটি দখলে নিয়েছেন তিনি এবং কারও জায়গা জায়গা তিনি অবৈধ দখল নেননি।
তবে, স্থানীয় এলাকাবাসী ইয়াছিনের এমন বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, এ রাস্তাটি ৫০ বছরের বেশি সময়ের পুরোনো এবং প্রায় এক যুগ আগে রাস্তাটির পিচঢালা পাকা রাস্তা করেছে স্থানীয় এলজিইডি। তারা বলেন, ইয়াছিন জমাদ্দারের বাড়ির সাথে কুমার নদ, তার বাড়ি'র সামান্য জায়গা ওই নদে পড়লেও রাস্তায় তার কোনো জায়গা নেই। আর কিছু অংশ থাকলেও অন্য সবার মতো তার এখন দাবি করা অন্যায়।
এদিকে, ইয়াছিন যে যুক্তি দিয়ে রাস্তাটি অবৈধ দখল করে জনগণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, ওই যুক্তিকে অগ্রহায়ণযোগ্য দাবি করে এলাকাবাসি আরও জানান, এ রাস্তাটি সরকারের এলজিইডি বিভাগ নির্মাণ করেছে এবং সরকার এলাকাবাসীর জায়গা নিয়েই স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার জন্যই এটা করে দিয়েছেন। এ এলাকার অনেকের জায়গাই এ রাস্তায় ভেতরে রয়েছে। তারা কেউ কোনো আপত্তি করেননি, বরং সবাই রাস্তাটি হওয়ায় খুশি এবং রাস্তাটি হওয়ার স্থানীয়রা এর সুফল ভোগ করছেন। জনস্বার্থে সবাই তাদের জমি দিয়েছেন কেউ ইয়াছিনের মতো এমন অমূলক দাবিও করেন নাই, রাস্তাও দখল নেন নাই। এমনকি রাস্তাটি দখললের আগ পর্যন্ত ইয়াছিন জমাদ্দার নিজেও রাস্তাটিতে তার জায়গা রয়েছে বলে কোনোদিনও দাবি করেননি। কিন্তু এখন ইয়াছিন জমাদ্দার সরকারি রাস্তাটিকে নিজের দাবি করে অবৈধভাবে দখল করে নিজ ঘর ও বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এতে স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সহ মাঝে মাঝেই ঘটতে দুর্ঘটনা।
এছাড়া, ইয়াছিন জমাদ্দার এমন জনগর্হিত কাজটি করেছেন স্থানীয় অগ্রাহ্য করে, প্রশাসন ও স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চোখ ফাঁকি দিয়ে। এমনকি সরকারি এ রাস্তাটি নির্মাণ করা সরকারি দপ্তর এলজিইডিকে না জানিয়েই তিনি সরকারি এ রাস্তাটি দখল করেছেন। যা মোটের ঠিক করেন নাই ইয়াছিন বলেও মনে করছেন এলাকাবাসীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। ঘটনাস্থল থেকে এমনটি স্বীকারও করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য খসরু শেখসহ এসময় উপস্থিত একাধিক সত্তর ঊর্ধ সিনিয়র সিটিজেন।
ঘনটাস্থল থেকে এসব বিষয়ে সদর উপজেলার কৃষ্ণ নগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (ওয়ার্ড মেম্বার) মো. খসরু শেখ উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'সরকারি পাকারাস্তাটি দখলমুক্ত করতে অনেকবার চেষ্টা করেছি। ইয়াছিন জমাদ্দারকে অনেকবার বুঝিয়েছি। বেশ কয়েকবার নিজের ভুল স্বীকার করে রাস্তাটির ওপর থেকে ঘর ও বাড়ির দেয়াল সরিয়ে নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি তা সরিয়ে নেননি। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন।
নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ওয়ার্ড মেম্বার খসরু শেখ আরও বলেন, 'আমি তো সামান্য ওয়ার্ড মেম্বার, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কারোর কথাই শোনেন না। কেনো শুনেন না, সেটা ইয়াছিন জমাদ্দারই ভালো জানেন।'
বিষয়টি অবগত করে ফরিদপুর সদর প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলজিইডি-এর উপজেলা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'এতোদিন যাবত জনৈক ইয়াছিন জমাদ্দার এলজিইডি'র করা পাকা রাস্তাটি দখল করে আছেন তা তিনি জানতেন না।
উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের মাধ্যমে এই প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেন জানিয়ে এলজিইডি'র এ উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, এমনটি হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। সরকারের তৈরি জনগণের চলাচলের রাস্তা অবৈধ দখল বা আটকানোর সুযোগ কারোরই নেই বলেও জানান এলজিইডি'র ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় রাস্তাটি দখল মুক্ত করতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ইয়াছিন জমাদ্দারের পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
(আরআর/এসপি/ জুন ০২, ২০২৬)
