প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
চোখের সামনেই নদীতে ডুবে বাবা-চাচার মৃত্যু অবলোকন করলো দুই কিশোর
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:৪৪:২৫
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর :চোখের সামনেই নদীতে ডুবে মৃত্যু হলো বাবা-চাচার। আর অসহায়ের মতো তাকিয়ে থেকে বাবা-চাচার করুন মৃত্যুর দৃশ্য তাকিয়ে অবলোকন করতে হলো দুই কিশোরকে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আত্রাই নদীতে। গোসল করতে নেমে নদীতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আর নিরূপায় হয়ে পিতা মান্না ইসলাম (৪৫) ও চাচা সাদ্দাম হোসেন (৩২) এর মৃত্যু তাকিয়ে অবলোকন করতে হয়েছে দুই কিশোর সজীব (১৪) ও নুর আলম (১২)কে। অসতর্কতায় চোরা গর্তে পড়ে মুহূর্তের নদীর গভীরে তলিয়ে গিয়ে নিভে গেছে দু'টি তাজা প্রাণ। এ ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।
বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কালিরবাজার ঘাট বালু মহালএলাকায় আত্রাই নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রাজধানী ঢাকার মিরপুর–১১ এলাকার বাসিন্দা, মৃত সিরাজ উদ্দিনের দুই ছেলে—মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সাদ্দাম হোসেন স্বপরিবারে ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার চাম্পাতলী গ্রামে আসেন। বুধবার সকালে সেখান থেকে লিচু কেনার উদ্দেশ্যে তারা খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার এলাকায় একটি লিচু বাগানে যান। ফেরার পথে কালিরবাজার ঘাট বালু মহাল এলাকায় নদীর পানিতে নেমে একসঙ্গে চারজন গোসল করতে শুরু করেন।
এ সময় মান্না ইসলামের দুই ছেলে সজীব (১৪) ও নুর আলম (১২) কোনোভাবে নদী থেকে উঠতে সক্ষম হলেও হঠাৎ করেই মান্না ইসলাম ও তার ভাই সাদ্দাম হোসেন গভীর পানিতে তলিয়ে যান। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দুই কিশোরের চারদিকে নেমে আসে আতঙ্ক আর হাহাকার।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মান্না ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে সাদ্দাম হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে নদীর পানি তুলনামূলক কম থাকলেও ওই ঘাট এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গর্তেই দুই ভাই তলিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারেননি।
এ বিষয়ে খামারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার ভাষায়, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ওই স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গোসল করতে নামলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।”
অন্যদিকে, খানসামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে উদ্ধার করে। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলে অপরজনের মরদেহও উদ্ধার সম্ভব হয়।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সরকার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই শোকাবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অসীম বিষাদ আর কান্নায়। নিহতের পরিবারে বইছে শোকের মাতম।
(এসএস/এসপি/ জুন ০৩, ২০২৬)
