ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ব্যাতিক্রমী প্রতিশোধ

দাদি-বাবার কবরের ফুলগাছ চুরি, চোরকে না খুঁজে পুরো গ্রামকেই বানালেন ফুলের বাগান

২০২৬ জুন ০৪ ১৮:৫৬:৪২
দাদি-বাবার কবরের ফুলগাছ চুরি, চোরকে না খুঁজে পুরো গ্রামকেই বানালেন ফুলের বাগান

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরপুর উপজেলায় পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে কবরস্থানে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরির ঘটনার পর প্রতিশোধ না নিয়ে ব্যতিক্রমী এক সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ। নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে রোপণ করা তিনটি ফুলের গাছ ফুল ফোটার পর চুরি হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় এমন ঘটনায় কিছুটা কষ্ট পেলেও পরোক্ষণেই ভাবেন, ফুলসহ তার গাছগুলো যিনি চুরি করেছেন তিনি নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসেন। এমন ভাবনা থেকে ও চোরের প্রতি ব্যতিক্রমি প্রতিশোধ নিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে তিনি নিজ উদ্যোগে ফুলের গাছ লাগাবেন। এরপর শামীম আহমেদ তার গ্রামজুড়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করে এক সৃজনশীল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে শামীম তার দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের গাছ রোপন করেন। কিছুদিন নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হয়ে ওঠলে কয়েকটি গাছে ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে গিয়ে শামীম দেখতে পান তার রোপণ করা তিনটি গাছই চুরি হয়ে গেছে।

এ ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে কিঞ্চিত কষ্ট পেলেও শামীম চোরকে খুঁজে বের করা বা প্রতিশোধ নেওয়ার পথে না গিয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি নিজ অর্থায়নে শ্রমিক নিয়োগ করে তার ভালোবাসার গ্রাম পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০০টি বাড়ির সামনে চুরি হওয়া ফুলগাছের একই শ্রেণীভুক্ত তিনটি করে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন।

প্রতিটি বাড়ির সামনে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলীর চারা রোপণের পাশাপাশি তিনি স্থানীয়দের গাছগুলোর পরিচর্যারও আহ্বান জানান। তাঁর এই উদ্যোগে গ্রাম জুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি নেতিবাচক ঘটনার এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্যিই বিরল এবং অনুকরণীয়।

হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, 'আমি ভেবেছি, যে গাছগুলো নিয়েছে সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই প্রতিশোধ না নিয়ে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ লাগিয়েছি। আমার ইচ্ছা, এই সবুজ ও সুভাসে পুরো গ্রাম ভরে উঠুক'।

তিনি আরও বলেন, 'আমার লক্ষ্য শুধু একজনকে নয়, সবাইকে সবুজায়নের প্রতি উৎসাহিত করা। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে ঢাকা থাকা সৃজনশীল গ্রাম্য যুবক শামীম আহমেদের। ওই গ্রামের স্থানীয়দের মতে, শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যে সমাজে চুরি'র অপবাদে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনীতে মানুষ মারার খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে গণমাধ্যমগুলোতে , সেই সময়ে এসে একই সমাজে শামীমের মতো এমন ব্যতিক্রম, সৃজনশীল ও সুন্দর মানসিকতার মানুষও যে আছেন, তার জীবন্ত উদাহারণ ফরিদপুর সদরপুরের এ যুবক নিজেই। আর এমনটি মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

(আরআর/এসপি/ জুন ০৪, ২০২৬)