ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত

‘৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না’

২০২৬ জুন ০৮ ১৪:২২:১৫
‘৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না’

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশকে নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতি ও বাধার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। দেশের এই যাত্রাপথ কখনোই সহজ বা মসৃণ ছিল না।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মঈন খান বলেন, যে স্বাধীনতার জন্য এ দেশের লাখ লাখ মানুষ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যে স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বাংলাদেশ আমরা পুরোপুরি গড়ে তুলতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা একদিকে বলি, একটি জাতির জীবনে ৫৫ বছর খুব বেশি দীর্ঘ সময় নয়।
যেমন–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি পালন করতে যাচ্ছে। আবার এটাও সত্য যে, ৫৫ বছর একেবারে কম সময়ও নয়।
তাই ‘বাংলাদেশ এখনো শিশু রাষ্ট্র’ –এমন অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্মের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি ‘হিলাল-ই-জুরাত’ খেতাব অর্জন করেছিলেন।

মঈন খান বলেন, করাচিতে কর্মরত থাকাকালে জিয়াউর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতেন। তখন থেকেই তার মধ্যে স্বাধীনতার চিন্তা কাজ করছিল কি না, সেটি এখন গবেষণার একটি বিষয়।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা কি হুট করে বা তাৎক্ষণিক ছিল, নাকি এর পেছনে তার দীর্ঘদিনের চিন্তা-চেতনা কাজ করেছিল?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে দেশে এখনো কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। সরকারের উচিত ছিল এই দায়িত্ব নেওয়া– এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

মঈন খান আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে শহীদ জিয়াকে নিয়ে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, বিগত সরকার গুম, খুন ও দুর্নীতির রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমনকি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারাও সেই সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সামগ্রিক কল্যাণে বর্তমান সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী রাষ্ট্র গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ দলের নেতাকর্মীরা।
(ওএস/এএস/জুন ০৮, ২০২৬)