প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত
ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসা উচিত?
২০২৬ জুন ১১ ১৮:০২:৪৯
শিতাংশু গুহ
বাংলাদেশী মুসলমানরা যে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে এর একটি হিসাব দেই? ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১২৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১২ কোটি ৩০ লক্ষ। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৬৫ মিলিয়ন, পশ্চিম পাকিস্তানে ৫৮ মিলিয়ন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিলো ৯৩ মিলিয়ন, তন্মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে ৪২.৮ মিলিয়ন, এবং পূর্ব-পাকিস্তানে ৫০ মিলিয়ন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালীকে দাবায়ে রাখতে পারবা না! সোজা অংকের খাতিরে ধরে নেয়া যাক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১৩ কোটি, তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে সাড়ে ৭ কোটি, পশ্চিম-পাকিস্তানে সাড়ে ৫ কোটি।
বাংলাদেশে ২০২২ সালের জনসংখ্যা জরীপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি (১৬ কোটি ৯ ৮লক্ষ ২৮ হাজার ৯২১ জন)। পক্ষান্তরে পাকিস্তানে ২০২৩ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২৫ কোটি (২৪ কোটি ১৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৩১ জন + কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান, আদম শুমারীতে এটি ধরা হয়নি)। অর্থাৎ ১৯৭১-২০২৩ পর্যন্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যা সাড়ে ৫ কোটি থেকে বেড়ে ২৫ কোটি হলে, একই সময়ে (১৯৭১-২০২২) বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি থেকে বেড়ে মাত্র ১৭ কোটি হয় কি করে? সাধারণ গণিতের হিসাবমতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হওয়া উচিত ৩৪ কোটি (২৫ x ৭.৫/৫.৫)। আরো সহজভাবে দেখলে দেখা যাবে পাকিস্তানে জনসংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে, বাংলাদেশে ৫গুন্ বাড়লে সংখ্যাটি ৩৪ কোটি’র বেশি দাঁড়ায়।
পাকিস্তানে জন্মহার সামান্য বেশি, বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে বাংলাদেশে ভাল, বহুবিবাহ প্রায় একই, এরপরও জনসংখ্যা বৈষম্য এতটা প্রকট হতে পারে? প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৭ কোটি, থাকার কথা ৩৪ কোটি, তাহলে বাকি ১৭ কোটি কোথায় গেলো? হিন্দুরা বলছে প্রায় ৫ কোটি হিন্দুকে বিতাড়িত করা হয়েছে? (হিসাবটি এরকম: ১৯৭১ সালে ১ কোটি হিন্দু ভারতে গেছে, দেশে বা এদিক-ওদিক হিসাবের বাইরে প্রায় ৫০লক্ষ হিন্দু, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি হিন্দু ছিলো, ৫ গুণ বাড়লে তা দাঁড়াতো সাড়ে ৭ কোটি, আছে ২ কোটি (সরকারি হিসাবে ১ কোটি ৪০ লক্ষ), বাকিরা ভারতে। এছাড়া দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রবাসী, বিদেশে থাকেন।
তাহলে দাঁড়াল ১৭ + ৫ + ২ = ২৪ কোটি। ৩৪ - ২ ৪= ১০ কোটি মানুষ গেলো কোথায়? সংখ্যাটি যদি আরো কমিয়ে ধরা হয়, অর্ধেক হলেও ৫/৬ কোটি মানুষের হদিস নাই? এঁরা সবাই ভারতে গেছে? বা নেপালে? বাংলাদেশে মানুষ হারিয়ে গেছে, ভারতে মুসলমান হুহু করে বেড়েছে, এর মধ্যে যোগসূত্র আছে বটে? এ সময়ে ভারত বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশীকে পুশব্যাক করেছে, বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে, এনিয়ে তাদের কিছু করার নেই? টিভিতে এসব ফিরে আসা মানুষগুলো সবিস্তারে জানাচ্ছেন বাংলাদেশে কোথায় তাদের বাড়ীঘর, কখন তাঁরা ভারতে যান, কেন থেকে গেছেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলতে চাইছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা আসলে ১৭ কোটির বেশি, প্রায় ২০ কোটি। তাও যদি হয়, তবুও তো ৪/৫ কোটি মানুষের খবর নাই, কেন? কারণ এঁরা সবাই ভারতে।
এ সময়ে এসআইআর বা এনআরসি’র ভয়ে কিছু অনুপ্রবেশকারী ফেরত গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়া, রাজনীতিকরা এতে বেজায় খুশি। কত মানুষ ফেরত গেছে এর কি কোন হিসাব আছে? ৫ হাজার, ১০ হাজার? শুনুন, প্রতিদিন ৫ হাজার মানুষ ফেরত গেলে মাসে মাত্র দেড়লক্ষ, বছরে ১৮ লক্ষ, ১০ বছরে ১ কোটি ৮০ লক্ষ। সুতারং ভারত থেকে ৫/৬ কোটি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠাতে কত সময় লাগবে? এটি কি সম্ভব? নিউটাউন বা কসবায় বস্তি উঠে গেছে দেখে ভাববেন না যে, ওরা ফেরত গেছে? ওরা ফেরত যায়নি, স্থানান্তর করেছে, কিছু অন্য রাজ্যে গেছে, কিছু নেপালে গেছে। এদের ফেরত পাঠানোর কাজটি এতটা সোজা নয়, এঁরা যাতে স্বেচ্ছায় ফেরত যায় সেই ব্যবস্থা করা উচিত এবং সেটি মানবিক হবে।
বৃটেন থেকে ৯০ লক্ষ মুসলমান ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, পুরো ইউরোপে সেটি হবে, কারণ সবাই জেনে গেছে, ওঁরা শরণার্থী নয়, ওঁরা ‘শরিয়া’ কায়েম করতে এসেছে। এ সময়ে বিশ্বে ৩০% শরণার্থী মুসলমান, এঁরা সভ্য দেশে গিয়ে গণতন্ত্রের সুযোগ অপব্যবহার করে ঐসব দেশকে তাদের ফেলে যাওয়া ‘অসভ্য’ দেশে পরিণত করতে কাজে লেগে যায়। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে এদের লক্ষ্য একই, এবং ‘গাজোয়াতুল হিন্দ’ এখন আর গোপন কিছু নয়। সেই লক্ষ্যে জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ওঁরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ, এরপর আসাম, সেভেন-সিষ্টারের জনবিন্যাস পাল্টে, বা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে, বৃহত্তর ইসলামী খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি এখন বিরাট বাঁধা, এবং এজন্যেই এঁরা ভারত ও বিজেপি বিরোধী।
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
