ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

অবাধে চলে দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন

ফরিদপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অমান্য করে গোপন সিঁড়ি দিয়ে অনৈতিক কাজ চালাচ্ছে ঈগল হোটেল

২০২৬ জুন ১১ ১৯:২৪:২৫
ফরিদপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অমান্য করে গোপন সিঁড়ি দিয়ে অনৈতিক কাজ চালাচ্ছে ঈগল হোটেল

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় কানাইপুরে অনৈতিক দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও মাদকের সেবনের নিরাপদ স্থান হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করা ঈগল আবাসিক হোটেলটি বিকল্প ও গোপন রাস্তা দিয়ে অবাধে চালাচ্ছে হোটেলটির মালিক পক্ষ ও মৃধা মার্কেটের মালিকপুত্র খ্যাত জৈনক সালাউদ্দিন মৃধা। ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে গত ২৮ মে (২০২৬) ফরিদপুর জেলা প্রশাসন পরিচালিত একটি মোবাইল কোর্ট কর্তৃক ওই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। এতে দেহ ব্যবসা ও মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আবাসিক হোটেলটির প্রধান ফটকে তালা মেরে দেন মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানিক দল স্থান ত্যাগ করার পরক্ষণেই আবারও বিকল্প এবং গোপন পথে পুনরায় আবাসিক হোটেলটি আগের মতো করে দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের অভয়ারণ্য পরিনত হয়। কানাইপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ম মৃধা মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অবস্থিত এ হোটেলটি আগের থেকে বরং এখন বেশি নিরাপদে ওসব অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

গত তিন-চারদিন মৃধা মার্কেটের ওই হোটেলের প্রধান ফটক, মৃধা মার্কেটের নীচ তলা দিয়ে উঠার ওই গোপন সিঁড়ি পর্যবেক্ষণ এবং হোটেলটিতে প্রবেশ করে উপরোক্ত তথ্যের সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেলটির বর্তমান ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, গত ২৮ মে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের হোটেলের প্রধান ফটকে তালা মেরে দিয়ে যান। আমরা বিকল্প পথ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই। তবে, কার নেতৃত্বে ওই অভিযান হয়েছে সেটি বলতে পারেননি ওই আবাসিক হোটেল ম্যানেজার। এসময় উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে ঈগল আবাসিক হোটেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম আরও জানান, 'হোটেল না চালালে খাবো কি? তালা তো খুলে দিয়ে যায় নাই প্রশাসন'।

এদিকে, গোপন পথ দিয়ে হোটেলের ভিতরের অংশে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলটির পূর্ব প্বার্শের সারির উত্তর কর্ণারে সিকিউরিটি মেইনটেন করে বেশ কয়েকটি নারীকে রাখা হয়েছে। ওই হোটেলে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হোটেল বয় একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা দিয়ে কয়েন (গোলাকার চাটকি বিশেষ প্লাস্টিকের বস্তু) সংগ্রহ করেন কাস্টমার। ওই কয়েন যে রুমে নারীরা থাকে সেখানে গিয়ে তাদের কাউকে পছন্দ করে তাদের হাতে জমা দিলেই ওই নারী কোনো নির্দিষ্ট খালি রুমে নিয়ে গিয়ে তাকে সঙ্গ দিয়ে থাকেন। এছাড়া, অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে হোটেলে কোনো কাপল আসলে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে রুম নিতে হয় রুম। যার হোটেলের সাধারণ রুম ভাড়ার ৪ থেকে ৫ গুন বেশি। এ আবাসিকের সবচেয়ে বড় অভিযোগ বেশির ভাগ কাস্টমারের নাম ঠিকানা নথিভুক্ত করা না। মানেন না আসাবিক হোটেল পরিচালনার কোনো নিয়ম কানুনও।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অবাধ চলাচল এখানে চলতেই থাকে। এমনকি অর্থলোভে ১৪ থেকে ১৭ বছরের ছেলে-মেয়েদেরকেও রুম ভাড়া দেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। এ আবাসিক হোটেলটি স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ পরিবাবারের যুব সমাজকে নষ্ট করার অন্যতম প্রতিষ্ঠান বলে মনে করছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় এ আবাসিক হোটেলটিতে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। আর যদি সেটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্ভব না হয়, তবে এ আবাসিক হোটেলটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সভ্য ও সচেতন সমাজ।

(আরআর/এসপি/জুন ১১, ২০২৬)