প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
প্রকৌশলীশূন্য লোহাগড়া পৌরসভা, বন্ধ উন্নয়ন কর্মকান্ড, বিঘ্নিত নাগরিক সেবা
২০২৬ জুন ১২ ১৪:১৭:৫৭
রূপক মুখার্জি, নড়াইল :নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) সংকটে ভুগছে। দু'জন প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বর্তমানে একজনও দায়িত্বে না থাকায় পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার প্রায় ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০০৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় 'লোহাগড়া পৌরসভা' গঠিত হয়। দীর্ঘদিন পৌরসভা গঠিত হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হলে পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রম স্হবির হয়ে পড়ে। এরপর পৌর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে নাই। এক কথায়, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে লোহাগড়া পৌরসভার কার্যক্রম।
সাম্প্রতিক সময়ে পৌরসভায় প্রকৌশলীর দুটি পদ শুন্য হওয়ায় পৌরসভার কার্যক্রম আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। থেমে গেছে উন্নয়ন কাজ।
পৌরসভার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী না থাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবন নির্মাণের নকশা যাচাই, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারি বরাদ্দের আওতায় থাকা বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এছাড়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতেও রয়েছে সংকট। বর্তমানে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব তৌফিকুল আলম একসঙ্গে দুটি পৌরসভার দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি সপ্তাহে দুদিন লোহাগড়া পৌরসভায় অফিস করেন। এতে নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাংবাদিক শরিফুজ্জামান বলেন, 'লোহাগড়া পৌরসভার বর্তমান অবস্থা খুবই হতাশাজনক। উন্নয়ন কাজ প্রায় বন্ধ। নাগরিকরা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত প্রকৌশলী নিয়োগ না দিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে'।
লোহাগড়া বাজারের ব্যবসায়ী গণেশ রায়, মাসুদ আহমেদ, সুদর্শন কুন্ডু ছোটনসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, 'লোহাগড়া পৌরসভা থেকে নাগরিক সেবা পাওয়া কষ্টকর। তার ওপর প্রকৌশলী নেই। ফলে উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে'।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) তৌফিকুল আলম বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় কোনো প্রকৌশলী না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রাক্কলন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অন্তত দুইজন প্রকৌশলী প্রয়োজন'।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা বলেন, 'পৌরসভার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে দু'জন প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়ে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং নড়াইলের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত লোহাগড়া পৌরসভায় প্রকৌশলী নিয়োগ হবে'।
(আরএম/এএস/জুন ১২, ২০২৬)
