ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই’

২০২৬ জুন ১৩ ১৯:১২:৪৩
‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই’

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। তিনি বলেছেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আজ শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালের দুই পাড়জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বাড়ছে। উপকূলীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরাও এসব ঝুঁকির বাইরে নয়। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ৫০ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এই জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছর এক কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পর প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মিজ কাউসার আজিজ আরও উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে দুই একর জমিতে বনায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে এই বনায়ন কর্মসূচি জেলার পরিবেশগত উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমত উল্লাহ পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মইনুল ইসলাম খান, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা হালদার, কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী প্রমুখ।

শেষে প্রাণসায়ের খালের দুই পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং স্থানীয় জনগণকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য, একসময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। সময়ের ব্যবধানে এর সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেলেও নতুন এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে খালপাড়ে আবারও সবুজের সমারোহ ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি শহরের পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।# সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। তাং-১৩.০৬.২৬ ছবি আছে।

(আরকে/এসপি/জুন ১৩, ২০২৬)