প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
বগুড়ায় তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ক্ষোভ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:৫৬:৫৯
বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল কানচগাড়ি চাপড়ি শীলপাড়া এলাকায় শিব মন্দির, কালী মন্দির ও শীতলা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্বৃত্তদের এধরনের ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে এলাকাবাসী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান। পরে কানচগাড়ি মহাশ্মশানে গিয়ে শিব মূর্তি ও পাশে শিতলা মন্দিরের শিতলা মূর্তিও ভাঙচুর দেখতে পান তারা। মূর্তি ভাঙচুর এর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমানো শুরু করে। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করলে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে ভাঙচুর হওয়া প্রতিমাগুলো ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মালম্বীরা।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, গত দুই দিন আগে তিনজন যুবককে মন্দিরে পূজা-অর্চনার নামে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাদের সন্দেহ, ওই যুবকরাই হয়তোবা রাতের আঁধারে প্রতিমা ভাঙচুর করে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার দাবি তাদের। এই ঘটনার ওই দিন বিকেলে মোকামতলা ও শিবগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি পুজা উদযাপন পরিষদ এবং মানবাধিকার সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মন্দির কমিটির এক সদস্য জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা প্রসাশন এসে দেখে আমাদের নতুন মূর্তি তৈরির জন্য কিছু টাকা দিয়ে ভাঙচুর কৃত মূর্তি গুলো জলে বিসর্জন দিতে বলে। আমরা প্রসাশনের কথামতো পরে তিনটি মূর্তি জলে বিসর্জন দেয় এবং মন্দির পরিস্কার করে ফেলি।
শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর দত্ত বলেন, আমরা সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিত ভাবে তিনটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে এই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছে। আমরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
মোকামতলা পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যতম সদস্য সুশান্ত কর্মকার বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটি-এর রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিকাশ স্বর্ণকার বলেন, যারা সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে চায়,তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
মোকামতলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ কে বলেছি থানায় যোগাযোগ করার জন্য বলেছি।
এ বিষয়ে জানতে বারবার শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কে ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।
(বিএস/এসপি/জুন ১৪, ২০২৬)
