ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সালামাদ ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য 

‘আমাকে আইন শেখান, ওই রকম বহু সাংবাদিক আমার দেখা আছে’

২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১২:৩৫
‘আমাকে আইন শেখান, ওই রকম বহু সাংবাদিক আমার দেখা আছে’

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : ‘আমাকে আইন শেখান আমি ৩০ ধরে চাকরী করি, ওই রকম বহু সাংবাদিক আমার দেখা আছে আপনাদের সাথে কোনো কথাই বলবো না, যা পারেন করেন। কি জন্য আপনারা আমার অফিসে আইছেন।’ কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের কালিয়ার সালামাদ ইউনিয়নের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্যা।

ঘুষের অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কাজ করেন না, সময় মত অফিসে না আসাসহ অনিয়মের আতুর ঘরে পরিণত করেছেন, নড়াইলের কালিয়ার সালামাদ ইউনিয়নের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্যা। সাংবাদিকরা এসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উল্টে হুমকি দেন যা পারেন তাই করেন।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাহমুদ মোল্যা ৬, ৭ মাস আগে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকে ভুমি অফিসকে দুর্নীতি আর অনিয়মের আতুর ঘরে পরিনত করেছেন। ভূমির নাম জারি, খাজনা দেয়া, নাম পর্ত্তন, সংশোধোনিসহ যে কাজেই যান না কেন অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কাজ করেন না।

চাহিদা মত টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানী করা হয়। সরকারি অফিস ৯টায় শুরু হলেও নিজের ইচ্ছামত বিভিন্ন অজুহাতে সাড়ে ১১টা ১২টার দিকে অফিসে যান।এ ইউনিয়নের নিজের জমি থেকে গাছ কাটলেও টাকা দিতে হয় নায়েবকে। ঘুষ-অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি ভুক্তভোগিদের।

নাম পরিবর্তন করতে আসা ৬৮ বছরের এর বৃদ্ধ মো: মন্নু রহমান বলেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহমুদ মোল্যা এই সালামাবাদ ইউনিয়নে আসা পর থেকে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে দেয় না। আমার একটা জমির নাম পরিবর্তন করে দিলে ৫০০ টাকা তাকে দেওয়া হয় তখন নায়েব বলে ৫০০ টাকা নিলে সচিবের সম্মান থাকে না ১৫০০ টাকা লাগবে। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি চলে আসি।

একই গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬৩) বলেন, আমি ১০ কাটা জমির খাজনা দিতে আসলে আমার কাছে ৩৮০০ টাকা চাই, পরে আমি চলে আসলে আমার বোনের কাছ থেকে ৪৮০০ টাকা নেয়। আমরা মুর্খ মানুষ আমাদের সাথে নায়েব এরকম প্রতিনিয়িত করে। আর কিছু বলতে গেলে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।

সেবা নিতে আসা সালামাদ গ্রামের রমিম হাসান বলেন, আমাদের এখানের নায়েব প্রথম দিন থেকেই এসে উল্টা পাল্টা করছে। আমাদের এলাকার লোক খুব ভদ্র তাই ওনাকে কিছু বলে না। কোনো কাজ নিয়ে আসলেই টাকা ছাড়া করে দেয় না, কাজপত্র যদি কারো একটু ভুল থাকে তাহলেতো তার কাছ থেকে যা পারে টাকা নেয়।

এ বিষয়ে কালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, আমরা এ বিষয়ে আমার উর্ধ্ধতন স্যারদের জানাবো। আর যদি আমাকে অফিসিয়ালি একটা লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে আরও ভালো হয় আমি আমার উর্ধ্ধতন কতৃপেক্ষের মাধ্যমে এবং আইননানুকভাবে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরএম/এসপি/জুন ১৫, ২০২৬)